শীতকালীন সবজিতে ভরপুর নড়াইলের লোহাগড়ার কাঁচা বাজার গুলো। বর্তমানে সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও চড়া। ক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসূমের সবজি বেশি আমদানি হওয়ায় আশা করেছিলাম দাম কমবে। দাম কিছুটা কমলেও তা আশানুরূপ নয়।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) লোহাগড়ার পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে— সবজির সরবরাহ গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বাজারে এখন লাউ, ফুলকপি, পাতাকফি, বেগুন, টমেটো, শিম, শশা, কুমড়া, করলা, বরবটি, পালনশাক পুঁইশাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজির প্রাচুর্য; তবুও দাম কমেনি বরং স্থিতিশীলভাবেই চড়া রয়েছে।
পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ সবজি আসছে কাঁচা বাজার গুলোতে।কিন্তু বাজারে ‘অঘোষিত সিন্ডিকেট’ দাম কমতে দিচ্ছে না। ফলে খুচরা বাজারে আসার পর সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে হু হু,করে।
লোহাগড়া কাঁচাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ইবাদত শিকদার বলেন, ‘আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য পাচ্ছি। কিন্তু ট্রাকভাড়া, শ্রম খরচ, বাজার ফি— সব মিলিয়ে পাইকারি দাম কমানো যাচ্ছে না। তবে দাম যে একেবারে কমে নাই তা বলা যাবে না। খুচরা বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে আশা করা যায় সপ্তাহ খানেক পর দাম পড়ে যাবে।’
লোহাগড়া বাজারের পাইকারী কাঁচামাল বিক্রেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী মিয়া শেখ বলেন, শীত মৌসুমের শুরুতে এ অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ায় প্রথম ধাপে লাগানো অধিকাংশ সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে বর্তমানে সবজির বাজার একটু চড়া। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম কমে যাবে বলে আশা করছি।
লোহাগড়া বাজার, এড়েন্দার হাট, লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা বাজার ঘুরে দেখা গেছে , বেগুন ৮০–১০০ টাকা কেজি, টমেটো ১০০–১২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১২০-১৫০ টাকা কেজি, আলু ৩০ টাকা কেজি, বরবটি ৫০-৬০ টাকা কেজি, করলা ৮০–৯০ টাকা কেজি, লাউ ৬০–৭০ টাকা (একটি), ফুলকফি-৭০-৮০টাকা কেজি, পাতাকফি-৫০-৬০টাকা কেজি, সিম – ৯০-১০০ টাকা কেজি, মুলা -৪০-৫০ টাকা কেজি, পিয়াজ -১০০ টাকা কেজি, রসুন -৮০ টাকা কেজি, আদা – ২০০ টাকা কেজি, গাজর -১২০ টাকা কেজি, ধুনিয়া পাতা -১৫০টাকা কেজি, পুঁইশাক ৫০-৬০ টাকা কেজি, লাল শাক, মুলা শাক প্রতিমুঠো ৩০ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা কেজি, পালন শাক কেজি -৫০/৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা বাজারে আগত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আক্তার-উজ-জামান বলেন, ‘বাজারে সবজির পাহাড়, সস্তা হওয়ার কথা। কিন্তু দাম শুনলে মাথা ঘুরে যায়। পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ক্রেতাদের অভিযোগ— সরবরাহ যখন বেড়েছে এবং পরিবেশ অনুকূল, তখন দাম কমা স্বাভাবিক। কিন্তু এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে দাম উঁচুতে ধরে রাখছে।
সাংবাদিক রাশেদ রাসু বলেন, এলাকার মানুষ কষ্টে আছে, কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে। প্রশাসন নজরদারি বাড়ালেই দাম কমবে।বিক্রেতারা দাবি করছেন, তারা মুনাফা বেশি করছেন না; বরং পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এরশাদ নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের হাতে কিছু নেই। পাইকারি বাজারে রাতারাতি ১০–১৫ টাকা বাড়ালে আমরা কম দামে বিক্রি করব কীভাবে ?
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরবরাহ বাড়লেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না— এটা বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন অনেকে।ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারি নজরদারি জোরদার না হলে এবং পাইকারি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে দাম কমবে না। সরবরাহ বাড়লেও দাম কমানোর কোনো উৎসাহ নেই বাজারে।
পরিবহন খরচ, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব কিছুর দাম যখন উচ্চ, তখন সবজির দামও চড়া থাকায় মাসিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। অনেকে এখন প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক পরিমাণ সবজি কিনে ঘরে ফিরছেন।ফলে বাজারে সবজি দিয়ে সয়লাব হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। ভোক্তারা এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন— সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে— এই সাধারণ নিয়ম কেন আর কাজ করছে না।
আজকালের কন্ঠ/ আর এস/ই