Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:২১ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ১৭, ২০২৫ , ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ববি শিবিরের নবীন বরণ প্রোগ্রাম

লেখকঃ ববি প্রতিনিধি:

রাজনীতি নিষিদ্ধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে একের পর এক প্রোগ্রাম করছে ববি শাখা ছাত্রশিবির। আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠান করে ববি শিবির। কাগজে-কলমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার এক বছর পেরোলেও বাস্তবে কার্যক্রম থেমে নেই। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন দেদারসে কর্মসূচি পালন করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, তবে সমাধানে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেট সভায় সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি ও পেশাজীবী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ক্যাম্পাসে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন– সে বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে ববি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ক্যাম্পাস অভ্যন্তরেই একের পর এক আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো একাডেমিক সময়ের মধ্যে হওয়ায় স্লোগান ও শব্দপ্রবাহের কারণে ক্লাস পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে তারা দাবি করছেন প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষেই এ সকল প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। আজ ১৭ নভেম্বর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম করলে বিষয়টি আবারো আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়াও গত ৩ নভেম্বর “এক শিক্ষার্থী, এক কুরআন” কর্মসূচিতে শিবির কুরআন বিতরণ প্রোগ্রাম আয়োজন করে। তাছাড়া গত ৩৬শে জুলাই দিবস উপলক্ষে ববি শিবির সাইকেল র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, মিলাদ মাহফিল এবং ঈদুল আজহায় শিক্ষার্থীদের ভোজের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব কর্মসূচির বেশিরভাগই “শিক্ষাবান্ধব” হলেও বাস্তবে দলীয় ব্যানার ও স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা চলছে। এসব কার্যক্রমগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলেও সমালোচনাও করছেন কেউ কেউ।

এদিকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শিবিরের পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছেন অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলোও। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন, লিফলেট বিতরণ, র‌্যালিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের গণভোট আয়োজন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ — টিএসসিতে একাধিক প্রোগ্রাম করেছেন। বাগছাস ব্যানারসহ প্রচারণা, পেশাজীবী সংগঠনও বাদ নয়— জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ গঠন করা হয়েছে সম্প্রতি। তবে ক্যাম্পাসে অবাধ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন,“শিবির, ক্লাস পরীক্ষার ব্যাপারে সচেতন কিনা? কেন্দ্রীয় মাঠে প্রতিযোগিতা, কনসার্ট, ফেস্ট যে যাই করেন আওয়াজটা মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। হল, মসজিদ, একাডেমিক ভবনে যেন এসবের ছায়াও না থাকে। দুনিয়ার সবাই আপনাদের সাউন্ড বক্সের আওয়াজ শুনতে বাধ্য না।”

তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত শব্দ শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকা প্রয়োজন। অন্য শিক্ষার্থীরা জানান—“নিষেধাজ্ঞা শুধু কাগজে আছে। বাস্তবে প্রশাসন দেখার ভান করছে, সংগঠনগুলো নিজেদের মতো কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশাসনের এমন দ্বিচারিতা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ববি শাখা ছাত্রশিবির নেতা মোকাব্বেল শেখ বলেন,”ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করে থাকে, আমরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটেই প্রোগ্রামগুলো করছি, আমাদের প্রোগ্রামগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষার্থীরাও প্রোগ্রামগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করছে, শিক্ষার্থীরা না চাইলে আমরা প্রোগ্রাম করবো না।”

এসকল প্রোগ্রাম আয়োজনে প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে ববি শিবিরের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমরা অনুমতি নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রোগ্রামগুলো করছি। শিক্ষার্থীবান্ধব এসব প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও করছে, ফলে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন— শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে তাই এ ধরনের প্রোগ্রামের অনুমতি দেয়া হয় না। তবে যারা করছেন এটি আইনত নিষিদ্ধ, ঠিক করছেন না।

আজকালের কন্ঠ/আর এস/ এ এ এম

প্রিন্ট করুন