চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের উদ্যোগে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিশাল সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন আন্দোলন-সংগ্রামের “পরীক্ষিত ও লড়াকু নেতা।” স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বক্তারা দাবি করেন,তাঁকে বারবার গ্রেপ্তার, কারানির্যাতন,এমনকি গরুর রশি বেঁধে ও ‘ঠান্ডাভেরী’লাগিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন,২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েতের দৈনিক পূর্বকোনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন,বিএনপি যে প্রথম দফায় ২৩৭ জনের মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়া ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নাম না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, “চট্টগ্রাম-৩ আসনে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তাঁকে উপেক্ষা করে জোট বা অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে মাঠে নেতাকর্মীদের পাওয়া কঠিন হবে। দ্রুত চট্রগ্রাম -০৩ আসনে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়ত হোসেনকে দ্রুত এই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন,“গত ১৬ বছরে দেশে-বিদেশে কারাবরণ করেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি, রাজপথে থেকেছি আন্দোলনে। আশা করি,বিএনপি এবং তারুণ্যের অহংকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে মূল্যায়ন করবেন।”
তিনি বলেন,“মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক সন্দ্বীপ গড়াই আমার স্বপ্ন। সন্দ্বীপের নৌযাতায়াত আধুনিক করা হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নতুনভাবে ডেলে সাজানো হবে।”
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ১ হাজার বর্গমাইলের বেশি এলাকা নিয়ে গঠিত সন্দ্বীপকে চট্টগ্রামের সঙ্গে স্থলযোগে যুক্ত করার দাবি তুলে ধরেন। পাশাপাশি মালদ্বীপের আদলে সন্দ্বীপকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,“সন্দ্বীপকে ইতোমধ্যে নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শুধু ঘোষণায় নয়,চট্টগ্রাম বন্দরের মতোই এ নদীবন্দরকে কার্যকর দেখতে চাই।”
সমাবেশ ও গণসংযোগে উপজেলা বিএনপি,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি