Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ১৩, ২০২৫ , ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

তালাবদ্ধ আধুনিক মার্কেট: আড়াই কোটি টাকার প্রকল্পে অব্যবস্থাপনা

লেখকঃ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার রামগতি বাজারে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনটি উদ্বোধনের দুই বছর পরেও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ভবনটি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ‘গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে ২০২০ সালের জুন মাসে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং একই বছরের জুন মাসে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দোকানগুলো চালু হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের নিচতলায় মাছ ও কাঁচাবাজারের জন্য উঁচু শেড করা হলেও ব্যবসায়ীরা এখনো অপরিকল্পিতভাবে দোকান বসাচ্ছেন। কেউ মার্কেটের ভেতরে, কেউ রাস্তায় বসে ব্যবসা করছেন। বাজারের রাস্তা জুড়ে বস্তা ও পণ্যসামগ্রী রাখায় পথচারীরা চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নেই কোনো শৃঙ্খলা বা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ। দ্বিতীয় তলার ১৩টি দোকানই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

বাজারের ব্যবসায়ী মো. নাঈম বলেন, “তরকারি দোকানদাররা অর্ধেক মার্কেটের মধ্যে, অর্ধেক রাস্তায় বসেন। এতে যানজট সৃষ্টি হয়, কিন্তু দেখার কেউ নেই।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, “ইউএনও’র সদিচ্ছা না থাকায় বছরের পর বছর মার্কেটটি অব্যবহৃত রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি।”

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মো. সাবিদ বলেন, “মার্কেটটি চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যে যার মতো দোকান বসাচ্ছেন। এতে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ভবনটি চালুর দাবি জানাই।”

বীজ ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন, “পেটের তাগিদে এখানে বসেছি। বাজার কমিটি যা সিদ্ধান্ত দেবে, তাই মানব।”রামগতি বাজার উন্নয়ন কমিটির সদস্য গরীব হোসেন রাসেল জানান, “ভবন উদ্বোধনের পর শতাধিক দোকানদার ভাড়া পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দুই বছরেও কেউ দোকান বরাদ্দ পাননি।”

বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বাজার উন্নয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জায়গা সীমিত হওয়ায় বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা যাচ্ছে না। মার্কেটটি চালু হলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হবে। এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।”

রামগতি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) স্নেহাল রায় বলেন, “২০২৩ সালের জুন মাসে মার্কেটটি আমরা ডিসি অফিসে হস্তান্তর করেছি। কেন চালু হচ্ছে না, তা জানা নেই। মার্কেটটি চালু হলে সরকার রাজস্ব পাবে। দোকান বরাদ্দের দায়িত্ব ইউএনও মহোদয়ের।”রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, “মার্কেটটির গুরুত্ব আরও বাড়লে আবেদনকারীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।”

 

আজকালের কন্ঠ/আর এস/জে

প্রিন্ট করুন