Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ৭, ২০২৫ , ১২:৪১ অপরাহ্ণ

লাইসেন্স শাখায় দায়িত্বহীনতা চরমে: ঘুষ, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও অপমানের অভিযোগ

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার লাইসেন্স শাখায় দায়িত্বহীনতা ও অনিয়ম চরমে পৌঁছেছে—এমন অভিযোগ বহুদিনের। মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর ২০২৫) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শাখায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা না মিলায় সেবা নিতে আসা লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৯টায় অফিস খোলার কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত রায় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা রীনা রানী রায় প্রায়ই ১১টা–১২টার আগে অফিসে আসেন না। এতে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।

সরেজমিন পৌর ভবনের ১০৪ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত নেই। ফলে সেবা প্রত্যাশীদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।

অভিযোগ: অনিয়ম, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও অপমানজনক আচরণ

সেবা না পাওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স শাখায় ঘুষ, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

রায়পুরের মহিলা কাপড় ব্যবসায়ী রুমা আক্তার বলেন, তাঁর ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সরকারি ফি ১,১৭৫ টাকা হলেও আদায় করা হয়েছে ২,০০০ টাকা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি গর্ভবতী অবস্থায় গিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ বসতেও দেয়নি। উল্টো অপমানজনকভাবে কথা বলেছেন রীনা রানী রায়। একপর্যায়ে আমাকে মজা করে বলেন, ‘উনার মাথায় উকুন আছে কিনা দেখেন।’”

এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান রুমা আক্তার।

ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন বলেন, “সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাউকে পাইনি। ফোন দিলে অমিত রায় প্রথমে জানান বাসা থেকে আসছেন; পরে বলেন কম্পিউটার নষ্ট। কিন্তু পরে দেখা যায় সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে।”

রায়পুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. নাজমুল আলম জানান, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় অমিত রায় তাঁর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন।

আরেক ব্যবসায়ী শাহ আলম খান অভিযোগ করেন, “বিবরণীতে ৩,৫০০ টাকা লেখা থাকলেও আমার কাছ থেকে ৪,500 টাকা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি টাকার কারণ জানতে চাইলে তারা উল্টো বলেন, ‘অনেক কম নিয়েছি।’”

স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত রায় এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা রীনা রানী রায় ফুফু–ভাতিজা সম্পর্কের। এ কারণে শাখাটিতে জবাবদিহিতার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক অমিত রায় বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। পরিবারের কয়েকজন অসুস্থ, তাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এখানে থাকতে চাই না—বদলি পেলে স্বস্তি পাব।”

প্রশাসনিক কর্মকর্তা রীনা রানী রায় বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। একদিন মাথায় আঘাত পাওয়ায় আশপাশে থাকা এক মহিলাকে মাথা দেখে দিতে বলেছিলাম। কেউ ভুল বুঝে থাকলে দুঃখিত।”

পৌর প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর পৌরপ্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “আমি বর্তমানে প্রশিক্ষণে আছি। ফিরে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পৌরসভায় অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন