Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১:১৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ৫, ২০২৫ , ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

শরিয়াভিত্তিক পাঁচ দুর্বল ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

লেখকঃ আজকালের কন্ঠ ডেস্ক

দুর্বল অবস্থার মুখে থাকা পাঁচটি শরিয়াহ ব্যাংকে একীভূতকরণপ্রক্রিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে ‍ঝুলে ছিল। এসময় এসে এসব পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অকার্যকর ঘোষিত ব্যাংকগুলো হলো, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

বুধবার (৫ নভেম্বর) পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পর্ষদ বিলুপ্তি এবং কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে জানানো হয়, এই পাঁচটি ব্যাংক এখন থেকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এর অধীনে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসব ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ব্যাংকের নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

তিনি বলেন, “আজ থেকেই এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। গভর্নর আগামী বৈঠকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরবেন।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে হয়।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছে। তারল্য ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ারবাজারে তাদের শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং প্রায় সব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) এখন ঋণাত্মক।

আজ বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সামনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে উদ্ধার ও ইসলামি ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন