লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিজের সন্তানের স্বীকৃতি পেতে প্রশাসন ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শাহিনুর বেগম ও তার ১১ বছরের পুত্র শাহাদাত। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ টেস্টের আদেশ হলেও এখনো পায়নি সন্তানের প্রাপ্য পরিচয় ও ন্যায়বিচার।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সন্তান স্বীকৃতির দাবিতে শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে আব্বাস উদ্দীন রতনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. শাহীন উদ্দীন মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২৬ নভেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার বাদী শাহিনুর আক্তার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বংশীব্রীজ এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দীন রতন রায়পুর পৌরসভার নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ৩ মার্চ মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের জোরে চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বাল্যবিবাহ হয় শাহিনুরের। দুই মাসের মাথায় সেই সংসার ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে ২০০২ সালে জীবিকার প্রয়োজনে নতুনবাজার এলাকার আব্বাস উদ্দীন রতনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন তিনি। ওই সময় থেকেই রতনের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ইমামের মাধ্যমে গোপনে শাহিনুরকে বিয়ে করেন রতন, তবে কাবিননামা সম্পন্ন করা হয়নি।
২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট শাহিনুর এক পুত্র সন্তান, শাহাদাতের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই আব্বাস উদ্দীন রতন মা-ছেলেকে অস্বীকার করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এরপর ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর শাহিনুর সন্তান স্বীকৃতি ও পিতৃত্ব নির্ধারণের দাবিতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিলেও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে ও চাপের মুখে শাহিনুরকে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।
মামলা প্রত্যাহারের সময় কাবিনের টাকা বাবদ ৩ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে সন্তানের ভরনপোষণের জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন আব্বাস উদ্দীন রতন। কিন্তু পরে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেননি।
এ বিষয়ে শাহিনুর বেগম বলেন, “আমি শুধু আমার সন্তানের পরিচয় আর ন্যায্য অধিকারটাই চাই। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।”
স্থানীয়রা জানান, মা ও সন্তান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক অবহেলা ও কটূক্তির শিকার। তারা এখন প্রশাসনের সহায়তায় সন্তানের আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি