Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:১৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ২, ২০২৫ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

মধ্যনগরে মান্নান মেম্বারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে, ন্যায় বিচারের দাবিতে ভূক্তভোগি পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

লেখকঃ মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কালাঘর গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের এক নিরীহ নারী মোছাঃ মাজেদা আক্তার (৪৫) অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগী মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে তাকে গৃহহীন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি একই গ্রামের এক বিধবা নারী জুবেদা খাতুনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূক্তভোগি মাজেদা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার পাওয়া ও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

ভুক্তভোগী মাজেদা আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন ২০২৫ তারিখে তার ভাই খাইরুল ইসলামের ছেলে সম্রাট (২৪) একই গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে ও মান্নান মেম্বারের ভাতিজি সুমাইয়া আক্তার (২০)-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। পরিবার এ বিষয়ে কিছুই জানত না বলে দাবি করেন মাজেদা আক্তার।

এর জের ধরে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রাতের অন্ধকারে মান্নান মেম্বার ও মজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে তাদের নির্দেশে একদল লোক মাজেদা আক্তারের পুকুরপাড়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে ফেলে। বাধা দিতে গেলে মাজেদা আক্তার ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা তার বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়।

মাজেদা আক্তারের দাবি, হামলাকারীরা তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল—
১. চাল ১৫ মন,
২. ধান ২২ মন,
৩. একটি সোলার ব্যাটারি,
৪. মোটর,
৫. গ্যাসচুলা ও সিলিন্ডার,
৬. একটি বাইসাইকেল,
৭. সোনার একটি চেইন ও রুপার দুটি চেইন,
৮. হাঁস ২২টি ও মুরগি কয়েকটি।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাজেদা আক্তার মধ্যনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর এসআই বিকাশ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও, পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে মামলা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘বিচার’ করার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

মাজেদা আক্তার বলেন, মান্নান মেম্বার ও মজিবুর রহমানের ভয়ে আমরা এখনো নিজের বাড়িতে ফিরতে পারিনি। তারা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসা করতে চায়। আমি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন