পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা সেতুর ওজন স্কেলে চলছে প্রকাশ্য কারচুপি ও চুক্তিভিত্তিক অবৈধ টাকা আদায়ের অভিযোগ। ওভারলোড ট্রাকগুলোকে স্কেলে না তুলেই চুক্তি অনুযায়ী টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত টোলকর্মীরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন ওই অবৈধ আয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাত ও ভোরবেলায় ওভারলোড ট্রাকচালকদের সঙ্গে আগে থেকেই টেলিফোনে “চুক্তি” করা হয়। নির্ধারিত টাকা পরিশোধের পর ট্রাকগুলোকে ওজন স্কেলে না তুলেই পার হতে দেওয়া হয়। গত সোমবার গভীর রাতে ২২ টন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাকে ২৮ টন মাল বোঝাই থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুই হাজার টাকায় ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কোনো রেকর্ড ছাড়াই টাকা আদায় করা হয়।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, ওজন স্কেলে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মী নিয়মিতভাবে এ ধরনের অনিয়মে জড়িত। কেউ নিয়ম মেনে ওজন করতে চাইলে নানা অজুহাতে দেরি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাকচালক জানান, “ওভারলোড থাকলে আগে ফোনে যোগাযোগ করি। তারা টাকা ঠিক করে দেয়, টাকা দিলে আর ওজন নেয় না — সরাসরি যেতে দেয়।”
পায়রা সেতু কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনৈতিক এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির কারণ। বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের ধারণা, এ কারচুপির সঙ্গে কিছু টোলকর্মীর পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত থাকতে পারেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল বলছেন, এই অনিয়ম অব্যাহত থাকলে শুধু সরকারি রাজস্ব ক্ষতি নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে সড়ক ও সেতু অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।