রাজধানীর মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার, নিহতদের পরিবারপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং অবৈধভাবে পরিচালিত গার্মেন্টস ও রাসায়নিক গোডাউনের মালিকদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (বুধবার) দুপুরে মিরপুর-১০ স্বাধীনতা চত্বরে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)।
গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে মিরপুরের রূপনগর-শিয়ালবাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানা ও সংলগ্ন রাসায়নিক গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, কমপক্ষে ১৬ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও অনেকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “কারখানার ভেতরে রাসায়নিক দ্রব্য থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিক দরজার ভেতর আটকা পড়ে পুড়ে যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি পরিকল্পিত হত্যা। অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত গার্মেন্টস ও গুদামগুলোর কারণে নিরীহ শ্রমিকরা প্রাণ হারাচ্ছেন।তারা তিনটি মূল দাবি জানান,অবিলম্বে ঘটনায় জড়িত ও দায়ী মালিকদের গ্রেফতার;নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ,মিরপুরসহ রাজধানীর সব অবৈধ গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করা।সভায় বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের নীরবতা ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এইসব অবৈধ কারখানা ও গোডাউন দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে,কারখানাটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তবে এখনো কোনো গ্রেফতার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এক কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়, তবে রাসায়নিক মজুদের কারণে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।নিহতদের স্বজনদের আহাজারি নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
শাহীন নামের এক স্বজন বলেন,আমার ভাই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতো। এখন তার লাশটাও ঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। যারা এই কারখানা চালায়, তাদের বিচার চাই।আরেক নারী শ্রমিকের স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আমাদের জীবন কি এক টাকারও দাম নেই?বাংলাদেশে গত দশ বছরে অন্তত ৩০টিরও বেশি বড় অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৮০০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠন হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি অপূর্ণ রয়ে যায়।
মিরপুরের এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে,কেন এখনো রাজধানীর ভেতরে অনুমোদনহীন গুদাম ও কারখানাগুলো দেদারসে চলছে?শ্রমিক সংগঠনের ভাষায়, “এটি শুধু গাফিলতি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার ফসল।মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন—দায়ীদের গ্রেফতার ও নিহতদের ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/এস