নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক খান মাহমুদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
খান মাহমুদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের চর মল্লিকপুর গ্রামে দুপক্ষের সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজন খুন হয়। প্রতিহিংসা মূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ওই মামলায় আমাকে ১নম্বর আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। শুধু মামলা দিয়েই প্রতিপক্ষ থেমে থাকেনি, গভীর চক্রান্ত করে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করানো হয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি পালন করেছি। আওয়ামী বাহিনী, পুলিশ বাহিনী আমার নামে নাশকতার মিথ্যা মামলা দিয়েছে। জেল খেটেছি, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি তবুও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর থেকে থাকেনি। এবং কখনও তাদের সাথে কোন ধরনের আপোষ করিনি। ৫ আগস্টের কিছুদিন পূর্বেও মিথ্যা নাশকতার মামলায় ২ মাস জেল খেটেছি।
জুলাই আন্দোলনে বন্দুকের গুলির সামনে থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নেতাকর্মীদের ছেড়ে চলে যায়নি। বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের এবং জুলাই আন্দোলন সংগ্রামের বহু ভিডিও, ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় এখনও ঘুরপাক খাই।
তিনি আরও বলেন, বড় পরিতাপের বিষয় হলো গত দেড় বছর আগে লোহাগড়া উপজেলার চরমল্লিকপুর গ্রামে গ্রাম্য অধিপত্যে বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয় আর ওই সময় দুই ব্যাক্তি নিহত হয়। সংঘর্ষের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবুও গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন ঈশ্বর্নিত হয়ে ওই হত্যা মামলায় আমাকে ১নং আসামি করে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে বহিষ্কারের আবেদনে মামলার কপি সংযুক্ত করে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে আবেদন করে প্রতিপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস আমাকে বহিষ্কারাদেশ দেন।
বহিস্কারাদেশ দেওয়ার পরও আমি দল ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ভালবাসার কারণে রাজনীতি থেকে একদিনও দূরে থাকতে পারিনি। এখনও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি।
পরিশেষে ভারাক্রান্ত কন্ঠে তিনি বলেন, দলের জন্য কি করেছি আপনারা যারা গণমাধ্যম কর্মী রয়েছেন আপনারাই ভাল বলতে পারবেন, আমি কি আর বলবো। তবে গ্রাম্য কোন্দলের কারনে আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। আমি ওই ঘটনায় জড়িত ছিলাম না। ওই গ্রামে আমি সব সময় শান্তি চেয়েছি। আমি বিগত দিনেও চেষ্টা করেছি দু-পক্ষ সব সময় যেন মিলেমিশে শান্তি মতে বসবাস করতে পারে। এখনও আমি চাই গ্রামের দু-পক্ষ যেন মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
তিনি পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিনীত আবেদন জানান। এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন ধানের শীষের পক্ষে কাজ সূযোগ করে দেন।
এবিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার সহসভাপতি মো. নায়েব আলী, কশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মিরাজ ফকির, মল্লিকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খিজির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, লোহাগড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের আহব্বায়ক মোল্যা আকিদুল ইসলাম দুলু, লোহাগড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাফায়েত মুন্সি, কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সৈয়দ শাহীন, নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নবাব আালী, সাধারণ সম্পাদক সাবু সরদার, নলদী ইউনিয়নের সভাপতি মো. প্রিন্স, লাহুড়িয়া যুবদলের সভাপতি মিল্টন জমাদ্দার, লক্ষীপাশা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. গিয়াস খান, কাশিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে বলেন আমাদের নেতা খান মাহমুদ আলমকে যে ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। গ্রাম্য কোন্দলের কারণে একটি পক্ষ এমন কাজ করেছে। খান মাহমুদ আলম ওই ঘটনায় জড়িত ছিল না। এইটা কোন রাজনৈতিক ঘটনা না। আমরা সকলে খান মাহমুদের বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মশিয়ার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খান মাহমুদ আলমের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রে কথা বলেছি। হয়তো অতি সিগ্রই খান মাহমুদ আলমের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে।