Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৫ , ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

বাকেরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেত্রী আনোয়ারা বেগম আয়নোর দখলে পৌর গোরস্থান!!

লেখকঃ খান মেহেদী :
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের উদ্যোগে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত মোসলেম আলী বেপারীর কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ক্রয় করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থানের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমেই পৌর চেয়ারম্যান মাহবুব আলম গোরস্থানের জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন।
নির্মাণাধীন পৌর গোরস্থানের ওপর নজর পড়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও নারী কাউন্সিলর আয়নোর। এরপর তাঁর লোকজন দিয়ে ওই মসজিদ দখল করে একটি গৃহ নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করে। ধীরে ধীরে পৌরসভার পুরো ৮০ শতাংশ জমি দখলে নেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও নারী কাউন্সিলর আনোয়ারা বেগম আয়নো।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেত্রী আনোয়ারা বেগম আয়নো তাঁর মৃত পিতা আব্দুর রশিদ দরবেশের নামে ওই সম্পত্তি কবুলিয়ত মূলে মালিকানা দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পাওয়ার পর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া পৌর গোরস্থানের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের মৃত ব্যক্তিদের সেখানে দাফন দেওয়া হয়।
এমনকি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া নিজ অর্থায়নে ওই গোরস্থানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে পৌরসভার কেন্দ্রীয় গোরস্থানের উন্নয়নকাজ শুরু হলে আবারও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ও নারী কাউন্সিলর আয়নো বরিশাল আদালতে একটি নতুন মামলা দায়ের করে উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করেন। ফলে পৌর গোরস্থানের উন্নয়ন কার্যক্রম আবারও স্থবির হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় গোরস্থানটি বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ে চরম অব্যবস্থাপনায় রয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নো দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে গোরস্থানের জমি দখল করে বসতঘর, গোয়ালঘর নির্মাণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়া গোরস্থানে থাকা পৌর কর্তৃপক্ষের বাগানের গাছ বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে গোরস্থানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং মৃত ব্যক্তিদের দাফনেও দেখা দিচ্ছে সমস্যা। গোরস্থানের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে আছে। কবরগুলো জঙ্গলে ঢেকে গেছে।
গোরস্থানে গেলে দেখা যায়, জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি গোরস্থানের মধ্যে বসতঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। সময় জলিল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আয়নোর কাছ থেকে ছয় হাজার টাকায় মৌখিকভাবে জমি ক্রয় করেছিলেন। জমি বুঝে না পেয়ে তিনি গোরস্থানের জমি দখল করে রেখেছেন।
তবে এ বিষয়ে জমি বিক্রেতা মোসলেম আলী বেপারীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, জলিল কোনো জমি ক্রয় করেননি। আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর নেতৃত্বে তিনি পৌরসভার জমি অবৈধভাবে দখল করে বসতঘর নির্মাণ করেছেন।এলাকাবাসী জানায়, গোরস্থানে প্রবেশের রাস্তা থেকে শুরু করে ভেতরের অনেক অংশ আগাছায় ঢাকা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও দখলদারদের স্থাপনা নির্মাণে গোরস্থানের মূল সৌন্দর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। এতে কবর রক্ষণাবেক্ষণেও পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়ছে। গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর না থাকায় অবাধে প্রবেশ করছে দখলকারীরা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আয়নোর জানান, এই সম্পত্তি কবুলিয়ত রয়েছে তাঁর বাবার নামে, তাই তিনি আদালতে মামলা করেছেন।পৌর প্রশাসক রুমানা আফরোজ বলেন, “পৌর গোরস্থানের উন্নয়নকাজে মামলা কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পৌরসভার একমাত্র গোরস্থানের উন্নয়ন করতে।”
আজকালের কন্ঠ/আর এস/ এম
প্রিন্ট করুন