মাদারীপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে সদর উপজেলার ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর বাজারে ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত (২৭ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকার বশির সরদারের ছেলে সোহাগ সরদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইতালি প্রবাসীর স্ত্রীকে কৌশলে তার গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের চিত্রটি মোবাইলে ভিডিও ধারন করে পরে ভিডিওটি তার প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিবে বলে একাধিকবার ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করে।
পরে (১ অক্টোবর) সোহাগ সরদারের ছোট ভাই জসিম সরদারসহ আরও কয়েকজন পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ওই নারীর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা গরম খুন্তি দিয়ে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় নির্যাতিত নারীর মা মুর্শিদা বেগম বাদী হয়ে সোহাগ সরদারসহ সাত জনের নামে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।প্রবাসীর স্ত্রী ধর্ষিতা জানান, আমার স্বামী ইতালিতে থাকে আমি দুই মাস আগে থেকে আমার দুইটি সন্তান নিয়ে সোহাগ সরদারের বাড়িতেই ভাড়ায় থাকি।
সেই সুযোগে সোহাগ সরদার প্রথমে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সোহাগ সরদার তার মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে,সেই ভিডিও স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিবে বলে আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। আমি দীর্ঘদিন ভয় ও লজ্জার কারণে কাউকে এঘটনার কথা জানাতে পারিনি।
কিন্তু কিছুদিন আগে ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে সোহাগ সরদার ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি খুন্তি পুড়িয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে সাড়া শরীর পুড়িয়ে দেয়। “তারা আমার যে জায়গাগুলোতে ছ্যাঁকা দিয়েছে, সেগুলো এত স্পর্শকাতর স্থান তাহা আমি মুখেও বলতে পারছি পারবো না।
ধর্ষণের এঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এসময় মানববন্ধনে নারী-পুরুষ সহ পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। তারা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এমন বর্বরোচিত ঘটনার বিচার না হলে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা থাকবে না। আমরা ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের ফাঁসি চাই।”
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, ধর্ষণের প্রধান আসামি সোহাগ সরদার আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। ফলে মামলার বিষয়ে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এধরনের জঘন্য ও নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/ এম