বান্দরবানে আলীকদম উপজেলায় পুরনো শত্রতার জেরে গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারীর ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে তার বাড়িতে ঢুকে তাকে নির্মম ভাবে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার চেষ্টা চালানো এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটপাট করার অভিযোগ তুলেন “পার্শ্ববর্তী জেমি নাসরিনসহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তবে জেমি নাসরিনের দাবি এটি জায়গা জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ফাইদা হাসিলের জন্য প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।
গত শনিবার (১১ অক্টোবর) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ৩নং ওয়ার্ড পূর্বপালং পাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ইউপির মহিলা সদস্য রেহেনা বেগম ও স্থানীয়রা। তিনি মোহাম্মদ হোসেনের স্ত্রী। তার বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও বড়ভাই জানান, স্বামীর চোখের চিকিৎসার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস ঘরে প্রায় দেড় লাখ টাকা রেখেছিলেন। তার স্বামী মো.হোসেন চিকিৎসাধীন ছিলেন কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে। শনিবার সকালে বড়ভাই আবুল কাশেম টাকা নিতে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে দেখতে পান- বোনের হাত রশি দিয়ে ঘরের ঠুনিতে বাঁধা, মুখ ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় পড়ে আছে দেখতে পান।
পরে স্থানীয় সর্দার মো ইমাম হোসেন ও মহিলা ইউপি সদস্য রেহানা বেগমকে খবর দেন বড়ভাই আবুল কাশেম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা গৃহবধূকে উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করেন।
ওয়ার্ড মহিলা মেম্বার ও স্থানীয় সর্দার জানান, “ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর হাত শক্ত করে বাঁধা, মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছেন এবং বাড়ির রুম গুলো লুট পার্ট অবস্থায় দেখা যায়। তাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ভাগ্যক্রমে তখনও তার নিঃশ্বাস চলছিল। তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই, না হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারত।
জ্ঞান ফেরার পর জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কয়েকজন নারী-পুরুষ পুলিশ পরিচয়ে দরজায় খুলতে বলে। তারা ওয়ারেন্টের আসামি ধরার কথা বলে ঘরে প্রবেশ করে। তারপর হঠাৎ আক্রমণ করে আমাকে বেধড়ক মারধর করে অচেতন করে ফেলে। পরে হাত-মুখ বেঁধে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. হোসেন বলেন, প্রতিবেশী জেমি নাসরিনের পরিবারের সঙ্গে জমি-জায়গার মামলা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সেই শত্রুতার জেরে তারাই ভাড়াটে। সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আমার স্ত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান।
অভিযুক্ত জেমি নাসরিন জানান, জান্নাতুল ফেরদৌস আমার পার্শ্ববর্তী উনার সাথে জায়গা জমি বিরোধ রয়েছে আমার। স্থানীয় গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে বান্দরবান আদালতে পর্যন্ত মামলা চলমান হয়েছে। মামলায় ফায়দা হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসব ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে যারাই করুক না কেন তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি হোক আমি চাই।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/জ