Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:২০ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ৮, ২০২৫ , ৫:৫০ অপরাহ্ণ

মুরাদনগরে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ

লেখকঃ কাজী শরীফ, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে হঠাৎ অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলার বাঙ্গরা বাজার, নবীপুর ও টনকী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা জানান, কিছু গরু ও ছাগল হঠাৎ করেই খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়, শরীরে ফোলা দেখা দেয় এবং দ্রুত মৃত্যু ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানো হলে তারা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেন।
কৃত্রিম প্রজনন সুপারভাইজার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, গতবছর এই অ্যানথ্রাক্সা রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরাদনগর উপজেলার সহস্রদিক গরু মারা যায়। যার ফলে বহু খামারি পুঁজি হারিয়ে পথে বসে। এ বছরও এ রোগের আক্রান্ত শুরু হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর হঠাৎ শরীরের টেম্পারেচার বেড়ে গিয়ে পেট ফুলে মুখ দিয়ে লালা বের হয় এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হয়ে মারা যায়। আক্রান্তের লক্ষণ আগে থাকে বোঝার উপায় কম থাকায় খামারিরা সময়মতো চিকিৎসা দিতে পারছেন না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী জানান, “আমরা কয়েকটি আক্রান্ত পশুর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠাই। পরীক্ষায় অ্যানথ্রাক্স পজিটিভ পাওয়া গেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, আমরা দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছি।”

জানা গেছে, রোগটি পশুদের পাশাপাশি মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে, বিশেষ করে আক্রান্ত পশুর মাংস বা রক্তের সংস্পর্শে এলে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান বলেন, “আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করছি। কোথাও কোনো গবাদিপশু হঠাৎ মারা গেলে যেন সেটি দাফনের আগে অবশ্যই প্রাণিসম্পদ অফিসে জানানো হয়।”

এদিকে, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে গরু ও ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকেও সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস

প্রিন্ট করুন