Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ২, ২০২৫ , ১:৫৩ অপরাহ্ণ

৪৮ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি মুক্তি, ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়া বন্দি মাদারীপুরের যুবক

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মাদারীপুর প্রতিনিধি : দালালের প্রলোভনে স্বপ্ন পূরণের আশায় ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পূর্ব মাজপাড়া এলাকার আসলাম কবিরাজ নামে এক যুবক।

দফায় দফায় দালালকে ৪৮ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি মুক্তি, দালালের বিচার ও সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান অসহায় পরিবারটি। দুপুরে সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলী এলাকার দালাল জামাল প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়ে সন্তানকে ফিরে পেতে কান্না জড়িত কন্ঠে এমনটি দাবি করেন লিবিয়ায় বন্দী যুবকের মা আসমা বেগম। তবে বাড়ীতে তালা দিয়ে বাড়ী থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত জামাল। এব্যাপারে মামলা অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গির আলম।

‎মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের হুগলি গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল জামাল প্রামানিক ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে ডাসার উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার আব্দুল হালিম চৌকিদারের ছেলে আসলাম চৌকিদারকে প্রলোভন দেখায়। স্বপ্ন পূরণের আশায় ইতালি যাওয়ার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দালাল জামাল প্রামানিকের হাতে তুলে দেন অসহায় পরিবারটি।

এরপর দালাল জামাল প্রামানিকের মাধ্যমে গত (৩ জানুয়ারি ২৪) বাড়ি থেকে বের হয়ে লিবিয়া পৌঁছায় আসলাম কবিরাজ।এরপরই শুরু হয় আসলাম কবিরাজের উপর নির্মম নির্যাতন।আসলাম মাফিয়াদের কাছে আটক বন্দী রয়েছে বলে অসহায় পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৪৮ লক্ষ টাকা আদায় করে দালাল জামাল প্রামানিক। অসহায় পরিবারটি ধার-দেনা ও জমিজমা বিক্রি করে টাকা তুলে দিয়েছিলেন দালালের হাতে সেই ধারের টাকা শোধ করার জন্য পাওনাদাররা পরিবারটিকে চাপ দেয় এমতাবস্থায় অসহায় পরিবারটি দালালের বন্দিশালা থেকে সন্তানকে ফিরে পেতে বারবার ছুটে যাচ্ছেন দালালের কাছে কিন্তু দালাল ৪৮ লাখ টাকা নেওয়ার পরও আবারো টাকার জন্য চাপ দেয়। নিরুপায় হয়ে অসহায় পরিবারটি এই ঘটনায় লিবিয়ার বন্দি যুবক আসলাম কবিরাজের মা আসমা আক্তার বাদী হয়ে বিজ্ঞ মানবপাচার প্রতিরোধ দমন ট্রাইবুনাল আদালত মাদারীপুরে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

‎এবিষয়ে মাদারীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন পর্যন্ত যতটা মামলা হয়েছে এবং যতটাই ইস্যু তৈরি হয়েছে আমরা প্রত্যেকটাই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করতেছি এবং আমাদের কাছে মামলা আসলে অবশ্যই আমরা সেটা তদন্ত করি। অনেকেই আবার পরবর্তীতে যোগাযোগ করে না’ পরবর্তীতে আমরা তদন্তপূর্বক মামলার চার্জশিট দিয়ে দেই। আর এই বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আমরা তদন্ত করতেছি, বিষয়টি সিরিয়াসলি আমরা দেখতেছি।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন