Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৪:১৯ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ , ৫:২০ অপরাহ্ণ

লালমনিরহাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ফলিমারীর চর

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : কমছে পানি, ভাঙ্গছে নদী। ধরলা নদীর ভাঙ্গনে লালমনিরহাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ফলিমারীর চর। ধরলা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে গৃহ ও কর্মহীন হয়ে পড়ছে প্রায় দু’শত পরিবার। তবে ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবী চরবাসীর।

জানা গেছে, ধরলা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, প্রতিবেশীর দেশ ভারত থেকে ধরলা নদী লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আবার পাটগ্রাম পুলিশ স্টেশনের কাছে নদীটি পুনরায় ভারতে ঢুকে পড়ে। দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের সর্বশেষ ভূখন্ডে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের উত্তর পূর্বদিক দিয়ে রাক্ষুসী ধরলা নদী প্রবাহিত।

স্থানীয় চরবাসি জানান, সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধরলার বুকে ফলিমারীর চর। চরটিতে প্রায় ৩৫০টি পরিবারের বসবাস ছিল। এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েক বছরের রাক্ষুসী ধরলা নদীর ভাঙ্গনের শিকার ফলিমারীর চর। ফলে নদী ভাঙ্গনে ২০০ পরিবারের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, ক্লিনিক, কাঁচা রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভাট, দোকানপাট, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সহপুরো চরটির তিনভাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অসহায় পরিবারগুলো সবকিছু হারিয়ে গৃহহীন হয়ে ঠাঁই নিয়েছে অন্যত্র।

সরেজমিনে নৌকায় পাড়ি দিয়ে দেখা যায়, ফলিমারীর চরে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। নৌকায় একমাত্র ভরসা। এক সময়ের বিশাল ফলিমারীর চরটিকে চারিদিকে ঘিরে ফেলেছে রাক্ষুসী ধরলা নদী। প্রতি বছরে জড়িয়ে ধরে গিলে খাচ্ছে চরের জমি। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে চরের অবশিষ্ট ১৫০টি পরিবার, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুজিব কেল্লা, আশ্রয়ণ কেন্দ্র, আবাদি জমি, গাছপালা ও মসজিদ রয়েছে।

তাই দ্রুত স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কালক্রমে পুরো ফলিমারীর চরটিই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। নদী ভাঙ্গন রোধ ও চরটি রক্ষায় সরকারের কাছে দাবি জানান স্থানীয় চরের বাসিন্দরা।

ফলিমারী চরের বাসিন্দা আছর উদ্দিন (৫৫) বলেন, ধরলায় পানি বাড়লেও ভাঙ্গে, কমলেও ভাঙ্গে। ধরলার ভাঙ্গনে চরে স্কুল, মাদ্রাসা, বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীর পেটে চলে গেছে।

ওই চরের বাসিন্দা লুৎফর রহমান (৪৫) বলেন, আমাদের ফলিমারী চরের অবস্থা ভাল নয়। আমাদের অনেক আবাদি জমি ছিল। এখন বাড়িভিটার জায়গাটুকু নেই। ধরলা ভাঙ্গনে ৫/৭ বার বাড়ি সরিয়ে অন্যর জমিতে বাড়ি করেছি। এই ধরলাই আমার বাবা-মা’র কবর সহ আবাদি জমি ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব।

অশ্রুসিক্ত নয়নে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জোনাব আলী বলেন, আমি বর্তমান ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কয়েক বছর পূর্বে ফলিমারীর চরের বাসিন্দা ছিলাম। রাক্ষুসী ধরলার ভাঙ্গন সবকিছু হারিয়ে ২নং ওয়ার্ডে বসবাস করছি। চরে ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে ঠাঁই নিয়েছে অন্যত্র। এখনো ১৫০ পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত কিছু জিও ব্যাগ ফেলানো গেলে অনেক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি রক্ষা পেত।

মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, শুধু ফলিমারীর চর নয়, আমার ইউনিয়নের ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন স্থানে ধরলা নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমি বার বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা পরেও ভাঙ্গন প্রতিরোধের তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ধরলা ভাঙ্গনের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। কিছু স্থানে কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন আর কোনো ব্যাগ মজুত নেই। নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/আর

প্রিন্ট করুন