Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১:০০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ , ১২:০৭ অপরাহ্ণ

বড়াইগ্রামে দাদির বিরুদ্ধে নাতিকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ সাহাবুল আলম, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামে দাদির বিরুদ্ধে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দুই বছরের নাতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার ইকড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।

মারা যাওয়া শিশুর নাম নুর ইসলাম (২)। সে গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু পূর্বপাড়া গ্রামের শাকিল আহমেদ ও পায়েল খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত দাদি সখিনা বেগম (৪৫) ইকড়ি গ্রামের আব্দুর মোতালেবের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রোলভা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে পায়েল খাতুনের সঙ্গে সোনাবাজু গ্রামের শাকিল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি-পুত্রবধূর সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল দীর্ঘদিন। সর্বশেষ নির্যাতনের ঘটনায় তিন মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান শাকিল। শুক্রবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পায়েলের মামার বাড়ি ইকড়ি গ্রামে আসেন শাকিল। ওই একই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সখিনা বেগমও।

পুত্রবধূ পায়েল খাতুন অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে তিনি ছেলে নুর ইসলামকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে গেলে শাশুড়ি ঘুম থেকে তুলে জুস খাওয়ান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে নুর ইসলাম। বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখতে পান এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখান পৌঁছানোর আগেই শিশুটি মারা যায়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত দাদি সখিনা বেগম দাবি করেন, “আমার ছেলে নিজেই জুস কিনে দিয়েছে। আমি সেই জুস নিজেও খেয়েছি, নাতিকে খাইয়েছি, এমনকি মেয়ের ঘরের নাতিকেও খাইয়েছি। আমাদের কিছু হয়নি। পারিবারিক কলহের কারণে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ছেলের বউ।”

বড়াইগ্রাম থানার ওসি গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস

প্রিন্ট করুন