Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:২৩ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

পবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান আলাদা নামাজ রুম ও নতুন সুযোগ-সুবিধা চালু

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করা হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক নামাজ রুম।

ধর্মীয় অনুশীলনের সুবিধার্থে এখানে রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা—পরিচ্ছন্ন কার্পেট, যথাযথ পর্দা এবং পূর্ণাঙ্গ ওজুখানার সুব্যবস্থা। ফলে ধর্মপ্রাণ ছাত্রীদের জন্য এটি হয়ে উঠছে স্বস্তি ও মর্যাদার এক অনন্য স্থান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম নামাজ রুমটি পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরিয়ান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, চাঁদ সুলতানা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবুইউসুফ এবং এগ্রিকালচারাল বোটানি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জহুরুল হক।

লাইব্রেরিয়ান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের আন্তরিক সহযোগিতায় এ রুমটি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী আমার কাছে সন্তানের মতো। নারী শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারে, এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করা আমার নৈতিক অঙ্গীকার ছিল। আজ সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আমি আনন্দিত।”

শুধু নামাজ রুমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি উদ্যোগ। উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খাবার কক্ষ ‘পর্দা কর্ণার’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার গ্রহণে ভিড় বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আলাদা সিরিয়ালের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীরা এই সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নামাজ কক্ষ না থাকায় অস্থায়ীভাবে নামাজের ব্যবস্থা করা হলেও তা ছিল অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত। নতুন নামাজ রুম এবং আসন্ন সুবিধাগুলো সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, উপাচার্যের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় নেওয়া এই উদ্যোগগুলো শুধু ধর্মীয় অনুশীলন বা খাবার গ্রহণের সুযোগ নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি, আত্মিক বিকাশ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রিন্ট করুন