Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৫৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ , ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

জননী প্রকল্পের উদ্যোগে তারাগঞ্জে বিতর্ক: বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার প্রয়োজন

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ সোহেল রানা, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : তারাগঞ্জের ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সে‌প্টম্বর) বিকেলটা যেন অন্য রকম ছিল। রোদ্দুর নরম হয়ে এলে মাঠজুড়ে ভিড় জমেছিল শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর অভিভাবকদের। সবার চোখ নিবদ্ধ এক মঞ্চে যেখানে চলছে এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিষয় “দারিদ্রতা নয়, কিশোর-কিশোরীদের অসচেতনতাই বাল্যবিবাহের মূল কারণ।

কোরিয়ান উন্নয়ন সংস্থা কেওআইসিবিএ’র অর্থায়ন, সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহায়তা ও আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘জননী প্রকল্প’-এর উদ্যোগে এই আয়োজন।

ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয় ও বরাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তি-তর্কে মুখর করে তোলে পরিবেশ।প্রতিযোগিতায় বরাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপক্ষ দল বিজয়ী হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার পায় দলনেত্রী নাদিয়া আফরিন কেয়া। তার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ আর দৃঢ় যুক্তি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুবেল রানা শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। সচেতনতা না থাকলে কোনো উদ্যোগই সফল হয় না। দারিদ্র্য থাকলেও অনেক পরিবার মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটাই দৃষ্টান্ত।

তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকেই সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হোসনে আরা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম সাবু ও জননী প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

দিনের শেষে যখন পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের, শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে গর্ব আর আত্মবিশ্বাস। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও আশ্বস্ত হন এই প্রজন্ম একদিন বাল্যবিবাহের অন্ধকার ভেদ করে নতুন আলো জ্বালাতে পারবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস

প্রিন্ট করুন