মো: নাজমুল হোসেন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় ১৩টি দপ্তরের মূল কর্মকর্তা না থাকায় ঐ সকল দপ্তর পরিচালিত হচ্ছে অতিরিক্ত বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় কর্মরত থাকায় এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য পদের দায়িত্বে থাকায় ঐ সকল কর্মকর্তারা পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে,ফলে সেবা প্রত্যাশীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইন্দুরকানী উপজেলায় মূল কর্মকর্তা না থাকা দপ্তর গুলো হচ্ছে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, তথ্য সেবা কর্মকর্তা এবং আই সিটি কর্মকর্তা সহ মোট ১৩ জন কর্মকর্তার পদ শূন্য। এ ছাড়া ও ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মুহাম্মদ আলী সম্প্রতি ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তদস্থলে এ উপজেলায় অন্য কোন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়নি তবে শিঘ্রই তিনি সেখানে যোগদান করবেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে ১০ টি পথ থাকলেও শুধুমাত্র ০৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে ৫০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।
শুন্য এসব পদ গুলোর মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে কাউখালী উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। উপজেলা প্রকৌশলী পদে পিরোজপুর সদর উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এই দুটি পদে সহকারী কর্মকর্তারা ভার প্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে নাজিরপুর উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদে পিরোজপুর সদর উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)। হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পদে বরগুনা সদর উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদে সহকারী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্য সেবা কর্মকর্তার পদে কাউখালী উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং আই সিটি কর্মকর্তার পদে ভান্ডারিয়া উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য উপজেলা থেকে যে সব কর্মকর্তারা এসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন তারা সপ্তাহে দুই এক দিনের বেশি আসেন না।
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মুহাম্মদ আলী বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের অনেক গুলো দপ্তরে কর্মকর্তার পদ শুন্য আছে। এসব পদে পদায়নের জন্য আমি জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে এবং জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিক বার প্রস্তাব করেছি।”
ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, “গত বছর ৫ আগষ্টের পর এই উপজেলার নাম জিয়ানগর পুনর্বহালের জন্য আমি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা মহোদয়ের কছে আবেদন জমা দিয়ে এসেছি। তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলা পরিষদের ১৩টি দপ্তরে যদি কর্মকর্তা না থাকে তাহলে মানুষ সেবা পাবে কিভাবে? আমি উন্নয়ন বঞ্চিত এই উপজেলায় সকল শূন্য পদে কর্মকর্তাদের পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি/এন