Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ , ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

৯০ দশকের জনপ্রিয় নায়িকা বনশ্রীর করুণ পরিণতি-মাদারীপুরের শিবচরে নিঃসঙ্গ জীবনের ইতি

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

এস এম তানবীর, মাদারীপুর প্রতিনিধি : বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা বনশ্রীর জীবনের অবসান হলো মাদারীপুরের শিবচরে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এ অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫৫ বছর। বিকেলে নানা বাড়ি একই উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের কুমেরপাড় এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি তার ভগ্নিপতি আবুল বাসার নিশ্চিত করেছেন।

বনশ্রীর চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় ‘সোহরাব রুস্তম’ সিনেমার মাধ্যমে। অল্প সময়েই তিনি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন। নব্বই দশকে একাধিক হিট সিনেমায় অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের কারণে ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান এই নায়িকা। জীবনের শেষ সময়ে ভুগছিলেন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে। প্রায় চোখের দৃষ্টি হারিয়েছিলেন তিনি।

অভাব-অনটনে জর্জরিত জীবনে বনশ্রী চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন গ্রামে ভিক্ষা করে ওষুধ সংগ্রহ করতেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে দেশের বিত্তবান ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তেমন কোনো সাড়া পাননি।

শিবচর থানার পাঁচ্চর এলাকার একটি সরকারি গুচ্ছগ্রামের ছোট্ট ঘরেই ছিল তার শেষ আশ্রয়। রান্না করতে না পারায় মাঝে মধ্যেই প্রতিবেশীদের কাছে খাবার চাইতে হতো।

একসময় লাখো দর্শকের প্রিয় এই অভিনেত্রীর জীবনের শেষ অধ্যায় কেটেছে একাকিত্ব ও মানবেতর কষ্টে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্রের এমন পরিণতি শুধু সিনেমাপ্রেমীদের নয়, সমগ্র সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্যই এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

শিবচরের মাদবরের চর ইউনিয়নের মেয়ে বনশ্রী। ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট এই এলাকার শিকদারকান্দি গ্রামে জন্ম তাঁর। বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মাতা সবুরজান রিনা বেগমের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বনশ্রী বড়। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।

১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে বনশ্রীর। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ব্যবসায় সফল হয় ছবিটি। পরিচিতি পান বনশ্রী। এরপর আরও ৮ থেকে ১০টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। নায়ক মান্না, আমিন খান, রুবেলের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন বনশ্রী। রুপালি পর্দার মতো জীবনও হয়ে উঠে রঙিন।

জীবনকালে এক সাক্ষাৎকারে বনশ্রী জানিয়েছিলেন, একসময় বিটিভিতে আবৃত্তি করতেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা ছিলেন। উদীচী গণসাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনয় শেখেন সুবচন নাট্য সংসদে। অভিনয় শেখা থেকেই চলচ্চিত্রে কাজের টান তৈরি হয়। এরপর সুযোগ আসে। অভিনয় করেন ‘সোহরাব-রুস্তম’ সিনেমায়। বেঁচে থাকতে বনশ্রী বলেছিলেন, ‘৯০ দশকে বাংলা সিনেমার জয়-জয়কার ছিল। বিনোদনের মধ্যে বিটিভি আর ছিল সিনেমা হল। সে সময় ১০টির মতো সিনেমায় কাজ করেছি। “নেশা”, “মহা ভূমিকম্প”, “প্রেম বিসর্জন” ও “ভাগ্যের পরিহাস” ছবিতে একটানা কাজ করি। নায়ক মান্না ও রুবেলের সঙ্গে অভিনয় করেছি। তবে চলচ্চিত্র ছেড়ে দেওয়ার পরই আর্থিক অনটনে পড়ি। শাহবাগে একসময় ফুলের ব্যবসায়ও করেছি। বাসে বাসে হকারিও করতে হয়েছে তিন বেলা খাবার জুটাতে।’

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন বলেন, নায়িকা বনশ্রী আমাদের সাথেই বসবাস করতো। খুব ভাল মানুষ ছিলেন। তার মত একজন নায়িকা অর্থ কষ্টে দূর্বিসহ জীবন যাপন করতেন। আমরা প্রায়ই তাকে সহযোগিতা করতাম।আবুল বাসার বলেন, বনশ্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/টি

প্রিন্ট করুন