Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

জবি প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিভাগের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ গভীরভাবে অনুধাবন করার সুযোগ করে দেয়।”

অনুষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং জবি ইসলামিক স্টাডিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন মোল্লা।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “আমাদের জীবন যেন আল-কোরআনের আলোকে পরিচালিত হয়, সেই চেষ্টা সর্বদা অব্যাহত রাখতে হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক। তিনি যা কিছু উত্তমরূপে রেখে গিয়েছেন, তা যদি আমরা জীবনে ধারণ করতে পারি তবে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবন হবে সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ এবং কল্যাণমুখী।”

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২% শিক্ষকার্থী মুসলিম । কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে প্রশাসন থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয় না। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এইবার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে। এটি একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।”

তিনি আরো বলেন,’মিলাদুন নবী’ নাকি ‘সিরাতুন নবী’ এটা নিয়ে বিতর্ক আছে।যে নামেই পালন হোক রসুল স. এর জীবনীর উপর হলে আমরা গ্রহণ করব।আল্লাহ তাঁর হাবিবকে পাঠিয়েছেন একটি মহান মিশন ও ভিশন নিয়ে—তা হলো মানব সমাজে তাঁর আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করা। এর আগে যত নবী-রাসুল এসেছেন তারাও একই মিশন বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। নবীর আদর্শের প্রশ্নে আমরা সবসময় আপোসহীন থাকবো।

অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার মধ্যে কেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম হন মোঃ আলী হাসান (১৯তম ব্যাচ) দ্বিতীয় রিফাতুল ইসলাম (১৮তম ব্যাচ) তৃতীয় রহমাতুল্লাহ মাক্কী(১৯তম ব্যাচ) , উপস্থিত বক্তৃতায় কাজী আরাফাত হোসেন (১৭তম ব্যাচ), নাতে রাসুল (সা.) প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় , তৃতীয় হন মোঃ রিফাতুল ইসলাম (১৮তম ব্যাচ),কাজী আরাফাত হোসেন (১৭তম ব্যাচ), রাকিবুল ইসলাম (১৫তম ব্যাচ)এবং রচনা প্রতিযোগিতায় যুগ্মভাবে প্রথম নাজমুন আক্তার ও আসমত উল্ল্যাহ (১৬তম ব্যাচ), দ্বিতীয় তাহমিনা খাতুন (২০ ব্যাচ) এবং তৃতীয় হন মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (১৬তম ব্যাচ)। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহীম খলিল এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস

প্রিন্ট করুন