আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও বদলাইনি মাদক কারবারিদের তৎপরতা। গ্রেফতার হচ্ছে না মাদকের সাথে সম্পৃক্ত রা।দেশি-বিদেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট। সীমান্ত ও বিমানবন্দর দিয়ে আসছে মাদকের চালান।
মাদক পাচারকারীরা এখন কৌশল পাল্টে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আগে সীমান্ত দিয়ে সরাসরি ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা আনা হলেও এখন সিন্ডিকেটগুলো বৈধ বাণিজ্যিক চালান, কুরিয়ার সার্ভিস এবং বিমানবন্দরের লাগেজে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইয়াবা, আফ্রিকার কোকেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের আইস আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে চক্রগুলো। একাধিক অভিযানে দেখা গেছে, পণ্যবাহী কনটেইনার, ফলের ঝুড়ি ও প্রসাধনীর চালানে লুকানো মাদক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।মাদকের আন্তর্জাতিক রুট এখন বাংলাদেশ!
কিটামিন একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদক। যা স্বল্পমেয়াদে বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি ও মূত্রথলির গুরুতর ক্ষতি, মানসিক সমস্যা এবং আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। নিয়মিত সেবনে সহনশীলতা তৈরি হয়ে ডোজ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দেয়, যা জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।মাদকের এই চালানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক’শ কোটি টাকার দেশি বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত সোনিয়া বেগম এর কাছে পাওয়া ১৩০ কোটি টাকা মূল্যের কোকেন সবচেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের বাজারে কোকেনের এত বড় চালান এর আগে কখনো কেউ দেখেনি। এছাড়াও দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশ থেকে নতুন নতুন মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে বলে জানান তারা।
বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বাংলাদেশী নাগরিক সোনিয়া বেগম আটক ।এই চক্রের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সহযোগিতা রয়েছে।বলে ধারণা করা হচ্ছে,নতুন মাদক প্রসঙ্গে সোনিয়া বেগম বলেন, এই মাদকটির ব্যবহার আমাদের দেশে তেমন একটা নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে মাদকটি আসে। এরপর প্রসেস হয়ে বিদেশে চলে যায়।
বছরে মাদকের পিছেই এক লাখ কোটি টাকা!‘অধিকাংশ অপরাধের নেপথ্যের কারণ হচ্ছে মাদক’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আজকালের কন্ঠ কে বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহার করা হলে শুধু দেশীয় বাজার নয়, বিশ্বব্যাপী মাদক প্রবাহ রোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আজকালের কন্ঠ/আর এস