Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৪:১২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ৩১, ২০২৫ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

কালীগঞ্জে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ : ইট বালি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ সোহাগ আলী, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রাস্তা নির্মাণের জন্য আনা ইট ও বালি নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনোয়ারা খাতুন নামের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য। ইউনিয়নটির একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা এই প্রতিবেদকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি লস্করকে অপসারণ করে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসক।প্রশাসক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে সরকারের সকল প্রকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের ইউপি সদস্য ও সচিবের মাধ্যমে সম্পন্ন করছেন।

এ সকল কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে হচ্ছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ইউনিয়নবাসী। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেশ কয়েকটি ইটের সলিং রাস্তা করা হয়েছে। ওই সব রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট ও বালি অত্যন্ত নিম্নমানের। শুধু তাই নয় রাস্তার ইট ও বালি মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন নিজের বাড়িতেও নিয়ে গেছেন। নিন্মমানের কাজ এবং রাস্তা নির্মানের ইট বালি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেনেও নেয়নি কোনো ব্যবস্থা। মূলত প্রশাসক,প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে ইউনিয়নের সব কাজে অনিয়ম সংগঠিত হচ্ছে। সরেজমিনে ইউপি মহিলা সদস্যের বাড়িতে গিয়ে রাস্তা থেকে আনা ইট ও বালির স্তুপ দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ ২৫ অর্থবছরে নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন তহবিল বিবিজি দ্বিতীয় কিস্তির অধীনে ১২ লক্ষ টাকার বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যায়ে ৬ টি প্রকল্প প্রণয়ন করে পরিষদের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর এসব কাজ দেখভাল করছেন ইউনিয়নটির প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা । সরকারের উন্নয়ন সহায়তার এ সব কাজ যথাযথভাবে না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে করা হচ্ছে অর্থ লোপাট। তাছাড়া প্রশাসককে পরিষদে পাওয়া যায় না। যে কোনো কাজের জন্য ইউনিয়নবাসীকে তার পেছনে ছুটে হয়রানির শিকার হতে হয়।

রাস্তা তৈরির নির্মাণসামগ্রী নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,রাস্তা ও আমার বাড়ির কাজের জন্য একসাথে ইট বালি কেনা হয়েছিল।আমার নিজের জন্য কেনা ইট বালি আমার বাড়িতে না ফেলে রাস্তায় ফেলে দেই ড্রাইভাররা। আমি সেখান থেকে আমার ইট বালি গুলো বাড়িতে নিয়ে গিয়েছি। এজন্য লোকে ভাবছে রাস্তার ইট বালি আমি নিয়ে গিয়েছি।

এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজে আমরা অনিয়ম করছি না। তবে ইউপি সদস্য যদি রাস্তার ইট বালি নিয়ে যেয়ে থাকেন তাহলে তাকে জানালে তিনি আবার সেগুলো ফেরত দিবেন।এখানে তেমন সমস্যার কিছু দেখছি না।

নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ইমদাদুল হাসান সকল প্রকার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তা নির্মাণের নির্মাণ সামগ্রী ইউপি সদস্যের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজখবর নিয়ে তারপর এ ব্যাপারে কথা বলব।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি খোজখবর নিয়ে সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন