Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ২৬, ২০২৫ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

“কলাপাড়া পৌরসভায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ভোগান্তিতে নগরবাসী”

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : চোখে দেখা খানাখন্দকের এই দৃশ্য কোন নালা কিংবা জলাশয়ের নয়—এটি কলাপাড়া পৌরসভার রহমতপুর, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি আবাসিক সড়ক।” বর্ষা মৌসুমে মাসের পর মাস ধরে সেখানে পানি জমে থাকে। নাগরিকদের প্রতিদিন পায়ে হেঁটে কিংবা যানবাহন নিয়ে এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়। শুধু এই সড়কই নয়, পৌরশহরের আরও অনেক সড়কেই একই চিত্র।

এছাড়া পৌরসভার ডজনখানেক সড়ক খানা-খন্দকে ভরা। যানবাহন চলাচলের সময় ক্ষুব্ধ পথচারীরা মেয়র, কাউন্সিলর ও প্রশাসনের অকার্যকারিতার কথা উচ্চারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত ও ক্ষণস্থায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের পকেট ভারী হলেও নাগরিকদের ভোগান্তি কোনোভাবেই কমছে না।

সূত্র জানায়, অয়েলমিল মসজিদ সড়ক, ইউএনও সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, মাদ্রাসা সড়ক, টেকনিক্যাল সড়ক, নজরুল ইসলাম সড়ক, পল্লী বিদ্যুৎ সড়ক, নাচনাপাড়া সড়ক, রহমতপুর কানেক্টিং সড়ক ও ভূমি অফিস সড়কসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান হয়েছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন। আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন নকশায় বাড়ি নির্মাণ, একাধিক ড্রেন তৈরি করে সড়ক সংকুচিত হওয়া, উঁচু ড্রেনের ঢাকনা পথচারীদের কাজে না আসা—সব মিলিয়ে নগর পরিকল্পনার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। অনেক ক্ষেত্রেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদাররা বিল আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এইসব অনিয়ম চলছে নির্ভয়ে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে মূলত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে। এর বাইরে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের ফেরিঘাট চৌরাস্তা থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব কাজ সাধারণ নাগরিকদের তেমন উপকারে আসছে না, বরং সুবিধা পাচ্ছেন কিছু ঠিকাদার ও পৌর কর্মকর্তারা।

অপরিকল্পিত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা, অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব, পানির সংকট ও গবাদিপশুর উৎপাত এখন কলাপাড়া পৌরবাসীর নিত্যসঙ্গী।

স্থানীয় নাগরিক অ্যাডভোকেট বিএইচ তালুকদার সুমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাসার সামনের সড়কে মাসের পর মাস পানি জমে থাকছে। স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।”

কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান স্বীকার করে বলেন, “কলাপাড়া পৌরসভার উন্নয়নে কোনো মাস্টার প্ল্যান করা হয়নি। তবে এডিবি’র বরাদ্দ পেলে সড়ক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দরপত্র প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। বাইরে কী হচ্ছে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। ক্ষমতাসীনদের দাপট সবসময়ই কিছুটা থাকে।”

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/মিজানুর

প্রিন্ট করুন