Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ১৮, ২০২৫ , ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

গণপূর্তে ওয়ালটন গ্রুপের একচেটিয়া লিফট সরবরাহ:নেপথ্যে চার প্রকৌশলী!চক্র

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৫ আগস্ট-২০২৪ পরবর্তী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সারাদেশে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনায় যথেষ্ট গতিশীলতা এসেছে। এরই মধ্যে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সমর্থক ওয়াল্টন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত অধিদপ্তরের সুবিধাবাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদী প্রকৌশলীদের বিদেশ ভ্রমণের অবৈধ টোপে ফেলে গণপূর্তের সকল অফিসে একচেটিয়াভাবে লিফট সরবরাহের টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি লিফট সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্যে ওয়ালটন গ্রুপ তদবির অব্যাহত রেখেছেন। গণপূর্তের একটি চক্র ওয়ালটন গ্রুপ এর পক্ষে কাজ করছেন। এই টিমে আছেন তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শেখর চন্দ্র বিশ্বাস , নির্বাহী নাজমুল আলম রব্বানী , কাজী মাশফিক আহমেদ এবং মোর্শেদ ইকবাল।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রের দাবি,ওয়ালটন কোম্পানির লিফট একচেটিয়াভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিডিউলে ঢুকানোর জন্য অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম কাজ করেছিল । তেমনি বর্তমানেও তারা ওয়ালটন গ্রুপ এর জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা ছলে, বলে, কলে ও কৌশলে ওয়ালটন কোম্পানি লিফট একচেটিয়া ভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সকল টেন্ডার পাইয়ে দিতে কাজ করছে। যেনো গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় সারা বাংলাদেশে অবস্থিত গণপূর্তের অফিসে ওয়ালটন কোম্পানির তৈরি লিফট একচেটিয়া টেন্ডারের মাধ্যমে স্থাপনের জন্য চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতার এর প্রত্যক্ষ মদদ আছে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র। এছাড়াও আরও মদদদাতা ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চারজনের একটি টিম ওয়ালটন কোম্পানির ফ্রি বিদেশ ট্যুরে গিয়েছে। এই বিদেশ ট্যুরে নেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো ওয়ালটন কোম্পানির বাংলাদেশি লিফটকে বিদেশি লিফটের সমতুল্য হিসেবে নতুন শিডিউলে ঘোষণা করা। এই টিমে রয়েছে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শেখর চন্দ্র বিশ্বাস , নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল আলম রব্বানী , কাজী মাশফিক আহমেদ এবং মোর্শেদ ইকবাল ।

তারা ইটালি ট্যুরের নাম করে ইউরোপে ওয়ালটনের টাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন । এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে পর্যন্ত ঘুরাতে নিয়ে গিয়েছেন। এই ট্যুর এর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেছে ওয়ালটন কোম্পানি ।

কেউ যেন বুঝতে না পারে তাই এই ট্যুরের সম্পূর্ণ আয়োজনে ওয়ালটনের নামটি কে উহ্য রাখা হয়েছে, এমনকি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কে অন্ধকারে রেখে কর্মকর্তারা এই অবৈধ ট্যুরে গিয়েছেন। এই ট্যুরের সকল কাগজ পত্র একটি ইটালিয়ান কোম্পানির নামে আসলে ও মূলত ওই কোম্পানি একটি স্পেয়ার পার্টস বানানোর কোম্পানি। তারা কোন লিফট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়।

লিফট দেখতে যাওয়ার কথা বলে তারা আসলে লিফটের পার্টস দেখে আসলেন ।এমিরাত এয়ারলাইন্সের স্পেশাল ফ্লাইটে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চারজন প্রকৌশলী কে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তি করা হয় তারা যেন ওয়ালটন কোম্পানি’র লিফটকে বিদেশী লিফটের সমতুল্য ঘোষণা করে।

এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখার বিষয়টি আসলেই দুর্ভাগ্যজনক এবং দুঃখজনক যেখানে কিনা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তবর্তীনকালীন সরকার বিদেশ টুরের বিষয়ে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

এবিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক,তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শেখর চন্দ্র বিশ্বাস , নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল আলম রব্বানী , কাজী মাশফিক আহমেদ এবং মোর্শেদ ইকবাল এর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেনি।

 

আজকালের কন্ঠ/আর এস

প্রিন্ট করুন