পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) এফ.করিম আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জুলাই/২৫ মাসের বেতন অযৌক্তিক,অন্যায় ও খামখেয়ালীভাবে আটকে রাখার প্রতিবাদে অত্র মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীগণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি(এডহক)এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৪আগষ্ট) বেলা ১টায় মাদ্রাসা সম্মুখে ইন্দুরকানী-বালিপাড়া মহাসড়কে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকল শিক্ষক কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অত্র মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা ছরোয়ার হোসাইন বলেন,অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ আলম রাজনৈতিক কারণে অভিযুক্ত থাকায় বিগত ২০২৪ সালের ২৯আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অত্র মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা রিয়াজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার অদক্ষতা,অযোগ্যতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে তিনি প্রতিষ্ঠান সঠিক নিয়মে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন।
প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক- কর্মচারীদের মধ্যে প্রকাশ্যে দলাদলি ও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে যা প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। এমনকি অত্র প্রতিষ্ঠানের দলাদলি ও সঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ায় কিছু কিছু ছাত্র অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যত্র ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই অনতি বিলম্বে আমরা মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং সভাপতি যেন আমাদের বেতন ভাতা অযৌক্তিক,অন্যায়ভাবে আট কিয়ে না রাখে সে ব্যাপারে আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।
অত্র মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি খেয়াল খুশিপনামত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি(এডহক) মাওলানা জহিরুল হক কে তিনি যখন যা বুঝান যাচাই-বাছাই না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কথায় সায় দিয়ে তিনি তা করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে,তাদের সিদ্ধান্তের ওপর কোন গুরুত্ব না দিয়ে তার মতাবলম্বী ২/৩জনের কথায় গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন যার পরিণাম প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অযোগ্য ও অদক্ষ অধ্যক্ষকে বাদ দিয়ে যোগ্য কাউকে দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি ও আমাদের প্রাপ্য নিয়ে কেউ যেন কারসাজি করতে না পারে তার স্থায়ী সমাধান চাই।
অত্র প্রতিষ্ঠানে ছাত্র অভিভাবক মো: নাজমুল হোসেন বলেন,আমার ছেলে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে, প্রায়ই শুনি নিয়মিত ক্লাস হয়না,শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষকরা ভার প্রাপ্ত অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও খামখেয়ালি পনার জন্য তার উপর অসন্তুষ্ট। যার প্রভাবে প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখায় ভাটা পড়েছে,দিন দিন অএ প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, আল ফাতাহ প্রকাশনী থেকে শিক্ষকদের উপহার হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে, আমি সেই টাকা শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি। সভাপতির কাছে জুলাই মাসের বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে গেলে তিনি বেতন বিলে স্বাক্ষর দিয়ে বলেন,প্রকাশনীর ১৫ হাজার টাকা আপনার কাছে জমা দিলে তারপর বেতন বিল ব্যাংকে জমা দিবেন তার আগে নয়,ততক্ষণ আটকে রাখবেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (এডহক)মাওলানা মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন আমি বেতন বিলে স্বাক্ষর দিয়েছি,আটকে রাখেনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা বিভিন্ন খাতের অর্থ লুটেপুটে খায়,লেখাপড়া করানোর দিকে কোন খেয়াল নেই। প্রকাশনী থেকে দেওয়া ১৫ হাজার টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়েছে। মাদ্রাসায় উন্নয়নের জন্য আমি ওই টাকা ফেরত চেয়েছি,ব্যক্তিগত কাজে নয়।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/নাজমুল