জাবি প্রতিনিধি : গত ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত ও হল কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে রাখা হয় সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী, হত্যা মামলার আসামি, মাদক ও ছিনতাইয়ে বহিষ্কৃত, ভ্রুণহত্যায় অভিযুক্ত সহ বিতর্কিতদের। তবে বাদ পড়েছে ত্যাগীরা। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্ধিত ও হল কমিটিকে সুপার ফাইভের ‘মাইম্যান’ এবং ‘পকেট’ কমিটি বানাতে গিয়ে গ্রুপিংয়ে ছাত্রলীগ সহ বিতর্কিতদের পদে রাখা হয়েছে।
কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হল কমিটিতে ১৭ টি হলের মধ্যে ১০ টি হলে সাবেক ছাত্রলীগের কর্মীদের জায়গা মিলেছে, তবে বাদ পড়েছে ছাত্রদলের ত্যাগীরা। হল কমিটিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক অথবা সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সভাপতি কাজী মৌসুমি আফরোজ, শহীদ সালাম বরকত হল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলিফ, ১০নং হল সভাপতি সাইফ বিন মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন মোল্লা, ২১নং হল সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিমন, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সীমান্ত, শহীদ রফিক জব্বার হল সভাপতি মো. জাহিদ খান, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হল সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মাহমুদ, মীর মশাররফ হোসেন হল সাধারণ সম্পাদক সোহাগ আহমেদ, ফজিলাতুন্নেসা হল সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা সুরভী, কামাল উদ্দিন হল সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাকিব মাওলা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
এদিকে হল কমিটিতে নাম, জানেন না সভাপতি-সম্পাদক নিজেরাই এমন ঘটনাও ঘটেছে। প্রীতিলতা হলের সভাপতি হুমায়রা মারিওম হিমি ও নবাব ফয়জুন্নেসা হলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন উম্মে হাবিবা বেলী কিন্তু এ বিষয়ে কেউই জানতেন না বলে জানিয়েছেন। হল ও বর্ধিত কমিটিতে পদ পেয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত, ভ্রুণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। এমনকি হলে না থেকেও হলের দায়িত্ব পেয়েছেন কয়েকজন।
এছাড়াও দুঃসময়ের দুই ছাত্রদল কর্মীকে বর্ধিত কমিটিতে রাখতে শাখা ছাত্রদল আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ৪১তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী মো. ইউনুস আলী এবং রাসেল খন্দকারের নিকট অর্থ দাবি করেছেন বলে জানান তারা।
অন্যদিকে, কমিটি গঠনের পর থেকে সুপার ফাইভের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান এবং বাইক শো ডাউন করছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ফলে গত ৫ দিন ভয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন না জাবি ছাত্রদলের সুপার ফাইভ।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আবু নাঈম বলেন, জাবি ছাত্রদলের বর্ধিত ও হল কমিটিতে সুপার ফাইভ ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বির্তকিতদের পদায়ন করে ক্যাম্পাসে চলমান যে সংকট তৈরি করেছে নতুন কমিটি না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। জাকসুতে ভালো ফলাফল করতে হলে ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যা এই কমিটির দ্বারা সম্ভব নয় কারণ সুপার ফাইভ আজ ৬ দিন ক্যাম্পাস ছাড়া।
তিনি আরও বলেন, একটাই উপায় আছে সেটা হলো দ্রুত বির্তকিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের দিয়ে নতুন কমিটি করে মাঠে নেমে পড়া। একদম সময় নাই। কেন্দ্র যদি এগুলো না বুঝে তাহলে জাকসুতে ভালো ফলাফল আসবে না। ছাত্রদলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে কেন্দ্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হোসাইন আল রাশেদ বাদল জানান, গত ৮ আগস্ট কমিটি গঠনের পর জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়মের চিত্র উঠে আসে গণমাধ্যম
গুলোতে। তাদের কারণে আমাদের ক্যাম্পাসে আজ বিএনপি’র ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগ, নানা অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের জায়গা হয়েছে ছাত্রদলের কমিটিতে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের অযোগ্য শীর্ষ ৫ নেতাকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করে, যোগ্যদের মূল্যায়ন করতে হবে।এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীককে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিতর্কিত কমিটির পর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে কিনা জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করেই কমিটি দিয়েছি। এরপরও যদি কারো নামে বিশেষ অভিযোগ থাকে এবং উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করবো। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ক্যাম্পাসেই রয়েছি।উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস /জাবি