Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ৬, ২০২৫ , ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিককে মারার হুমকি ছাত্রদল নেতার

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

শিহাবুল ইসলাম শাহেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে, যেখানে অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় সময়ের আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশরাফুল আলম ও এনটিভির প্রতিনিধি রোহান চিশতী হুমকি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান চলাকালীন সাংবাদিকরা ছবি তুলতে এগিয়ে গেলে জাহিদুল ইসলাম তাদের সরে যেতে বলেন। সাংবাদিক আশরাফুল আলম পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা বললে জাহিদুল তাকে ‘বেয়াদব’ বলে থাপড়ানোর হুমকি দেন। ওই সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পরে এনটিভির প্রতিনিধি রোহান চিশতী হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তাকেও মারতে উদ্যত হন জাহিদুল। তিনি বলেন, “তুই কি আরও বুঝতে চাইতেছোস?” এবং রোহানকে একাধিকবার ‘সাংঘাতিক’ বলে কটূক্তি করেন।

ঘটনার বিষয়ে সময়ের আলোর প্রতিনিধি আশরাফুল বলেন, “আমি শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা বলায় হুমকি পেয়েছি। পরে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।” রোহান চিশতীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি কারণ জানতে চাইলেই উনি আমাকে মারতে আসেন এবং অপমানজনক আচরণ করেন।”

এমনকি অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করেন জাহিদুল। ‘আমার বার্তা’র প্রতিনিধি মুমিন ইসলাম সবুজ জানান, “ভিডিও ধারণের সময় তিনবার আমাকে সরতে বলা হয় এবং কর্কশ ভাষায় কথা বলা হয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহিদুল ইসলাম অর্থনীতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বখতিয়ার উদ্দিন নিশ্চিত করে জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের বিশেষ বিবেচনায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল বর্তমানে সভাপতি পদপ্রার্থী ইমরান আহমেদ ফরাজির অনুসারী। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সাংগঠনিকভাবে আমরা ব্যবস্থা নেবো এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবো।”

ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/নাসির 

প্রিন্ট করুন