নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর সুগার মিলে নৈশ প্রহরীদের বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে থাকা ১জন নিরাপত্তা ইনচার্জ এবং ৮জন প্রহরীর মধ্যে ৩জনকে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে । প্রাথমিকভাবে এরা হলো নাটোর শহরের হুগোল বাড়িয়া এলাকার মোহাম্মাদ আলীর ছেলে ও নিরাপত্তা প্রহরী তুহিন আলী (৩০) আব্দুল করিম এর ছেলে সাব্বির আহম্মেদ (২৫) এবং সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মুহাম্মদ আলীর ছেলে সাজেদুল ইসলাম (৩৫) অন্য ছয় জনকে আপাতত ছেড়ে দেয়া হলেও নজর দারিতে রাখা হয়েছে তাদেরকে । তবে যে কোন মুহূর্তে তাদের ডাকা হলে থানায় তারা হাজির হবেন এই মর্মে ।
অন্যদিকে গ্রেফতার তিনজনকে নাটোর সদর কোর্টে সোমবার (৪ আগস্ট) বিকালে হাজির করা হলে, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়টি মামলার তদন্ত অফিসার শাহাদৎ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল, এর মধ্যে রাত দেড়টার দিকে ২০-৩০ জনের একটি ডাকাত দল মিলের গেটের নৈশ প্রহরীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে রেখে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে মিলের ভিতরে থাকা আরও আটজন নৈশ প্রহরীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে বেঁধে বয়লার রুমে আটকে রাখে ডাকাতি করে।
এতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতদল। চিনিকলের ভিতরে ১০টি ভারী গ্যান মেটাল বিয়ারিং,তামার তার, বৈদ্যুতিক পাওয়ার হাউজ এর যন্ত্রাংশ, পিতলের রোলার বিয়ারিং, তামার বার মিল হাউজ, ওয়ার্কসপ হাউজসহ বিভিন্ন রুম থেকে এসব মালামাল লুট করে নেয়া হয়।
এ ঘটনায় মিলকর্তৃপক্ষ থানায় মামলা দায়ের করে। এ ঘটনার মিলের নিরাপত্তা দায়েত্বে থাকা একজন ইনজার্চ ও ৮ জন নিরাপত্তা কর্মিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়।
নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান তিনি বলেন, মিলকর্তৃপক্ষ এঘটনায় দুইজন দায়িত্ব অবহেলার কারণে অব্যহতি প্রদান করেছেন। এরা হলেন, হাবিলদার বদরু উদ্দিন বেগ ও নিরাপত্ত প্রহরী সাব্বির আহমেদ।
অপরদিকে নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. ফেদৌসুল আলমকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা আছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন, মহাব্যবস্থাপক যন্ত্র প্রকৌশল নুরুল ইসলাম শেখ, মহাব্যবস্থাপক তড়িৎ কৌশল রঞ্জু।
মিল কর্তৃপক্ষ বলেন, ডাকাতরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মিলের ভিতরে তাদের কার্যক্রম চালায়। পরে ভোরের দিকে একজন নৈশ প্রহরী কৌশলে তার বাঁধন খুলে মিলের হুইসেল বাজিয়ে দেয় এবং অন্য প্রহরীদের বাঁধন খুলে দিয়ে মসজিদের মাইক থেকে মাইকিং করে ডাকাতির ঘটনাটি সবাইকে জানায়। খবর পেয়ে মিল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিলে এসে পুলিশকে জানায়।” তিনি বলেন, “আমরা নানা স্তরে ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করছি। কারা ছিলেন দায়িত্বে, সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। এখনকার অভ্যন্তরীণ লোকদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এব্যাপারে নাটোর থানার ওসি তদন্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় রোববার দুপুর পরে অজ্ঞাত ১০-১২জন আসামী করে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য চিনি শিল্প করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮২ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৮৪ সালে শেষ হয় এবং ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে এতে চিনি উৎপাদন শুরু হয়।
নাটোর সুগার মিল দেশের ঐতিহ্যবাহী চিনিকলগুলোর মধ্যে একটি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় মিলটি অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
আজকালের কন্ঠ/রাহাত/রাশেদুল