কাজী শরীফ, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার আল্লাহু চত্বরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল বের করে এনসিপি। মিছিল শেষে ফেরার সময় পিছন থেকে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করে বিবৃতি দিয়েছে দুই দল। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু এনসিপি’র লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পরিকল্পিতভাবে মুরাদনগরের পরিবেশকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য।”
মহিউদ্দিন অঞ্জন আরো বলেন বলেন, “আসিফ মাহমুদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশি নন, তারা ভারতের গোহাটি থেকে আগত। তাদের এই দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অধিকার নেই। তাদের পূর্বপুরুষদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য এসেছে।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুরাদনগর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ বলেন, “আমরা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে চলে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই বিএনপি’র লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।”
সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ বা মামলা করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/রাহাত/শরীফ