Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৩৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ২৮, ২০২৫ , ৬:২৫ অপরাহ্ণ

নেত্রকোনা চাঞ্চল্যকর শিশু পান্না হত্যায় তিন জনের মৃত্যু দন্ড আদেশ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় চাঞ্চল্যকর শিশু পান্নাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

একই সাথে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও একলক্ষ টাকা অর্থ দন্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে ঠাকুরকোনা গ্রামের কাজল চন্দ্র সরকারের ছেলে অপু চন্দ্র সরকার, আব্দুর গফুরের ছেলে মামুন ও একই গ্রামের মৃত মিয়াচানের ছেলে সুলতান।

সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ডক্টর এ কে এম এমদাদুল হক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে গত ২০১৭ সনের ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা রেলের পাশে থাকা রিকশা চালক লালচান মিয়ার ১৪ বছরের শিশু কন্যা পান্নাকে ডেকে নিয়ে পাশের মাছের ফিশারি খামারের ঘরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরিবার সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খামার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসলে আসামিরা পরিবারটিকে বিষয়টি ধামাচাপার জন্য হুমকি দিয়ে আসে। পরদিন সকালে শিশু পান্নার ঝুলন্ত মরদেহ পাশের আরেকটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পান্নার মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নেবত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করতে বাধ্য করে।

এ ঘটনা এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ পেলে আদালতের মাধ্যমে ২০১৭ সালে ১০ সেপ্টেম্বর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের পর পুনরায় লাশ দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে আসামি অপু ও মামুনকে ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া জবানবন্দি মূলক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলাটি পুনরায় ফাইল হয়। পরে তিন নম্বর আসামী খামার মালিক সুলতান মিয়াকেও আটক করে পুলিশ।

পরবর্তীতে ২০১৮ সনের ৫ এপ্রিল আদালতে পুলিশ চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করে। ১৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক উক্ত রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে তিন জন আসামিই উপস্থিত ছিলেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এস

প্রিন্ট করুন