Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ২৭, ২০২৫ , ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

বাঘায় সেবা ক্লিনিকে অপারেশনে পরে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় থানা মোড়ে সংলগ্ন সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের পরে মালেকা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাঘা পৌরসভার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের খোরশেদ আলীর স্ত্রী।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে মালেকা বেগমকে জরায়ুর সমস্যার কারণে সেবা ক্লিনিকে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করে।

স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিত্র দেখিয়ে স্বজনদের শনিবার(২৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা জানতে পারেন, মালেকা বেগম তিন থেকে চার ঘণ্টা আগেই মারা গেছেন।

ঘটনাটি জানা জানি পর স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায় এবং স্থানীয়রা ক্লিনিকটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একইসঙ্গে ভেতরে থাকা অন্য ২টি অপারেশনের রোগীকেও বের করে দেওয়া হয়।

পরে বাঘা থানার মোবাইল টিমের এসআই রবিউল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স,বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান মকুল,আব্দুল লতিফ,আজমুল,সেলিমসহ আরও অনেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবা ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। ক্লিনিকটি বাঘা থানা গেটের পাশে এমন এক স্থানে অবস্থিত যেখানে একদিকে কোচিং সেন্টার, অন্যদিকে রোগে আক্রান্ত মানুষের আনাগোনা যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ক্লিনিক ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের কোনো সুব্যবস্থা নেই।এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোগী ধরতে দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যারা গ্রামের নিরীহ মানুষদের প্রলোভনে ফেলে কিছু কমিশন পাবার জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে ক্লিনিকের মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, রাত ২টার দিকে ৩জন অভিজ্ঞ সিনিয়র ডাক্তার কয়েকটি রোগীর অপারেশন করেন।অপারেশনের পরে রোগীরা ভালো ছিলো। আমি অপারেশন শেষ রাত ৪টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই।আমি থাকা অবস্থায় রোগীরা অবস্থা ভালোই ছিল। পরে কী হয়েছে, তা আমি জানি না।

মৃত রোগীর স্বজনদের কোন অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহটি গতকাল দাফন সম্পুর্ন হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/আর

প্রিন্ট করুন