লোহাগড়ায় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার আড়ালে চোর লালন পালন- প্রশাসন ও সমাজপতিদের নিরবতা | Daily AjKaler Kontho

লোহাগড়ায় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার আড়ালে চোর লালন পালন- প্রশাসন ও সমাজপতিদের নিরবতা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৫, ৮:৩৭ অপরাহ্ন
লোহাগড়ায় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার আড়ালে চোর লালন পালন- প্রশাসন ও সমাজপতিদের নিরবতা

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। বিশেষ করে গ্যারেজ, দোকানপাট ও বসতবাড়িতে রাতের আঁধারে চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। পুলিশ প্রশাসন ও সমাজপতিদের নিরবতা হয়তো চোরদের চুরি করার সুযোগ বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

গ্যারেজ মালিকদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি রাতেই ইজিবাইক, নসিমন, বাস-মিনিবাস, মাইক্রোবাস মেরামতের গ্যারেজে চুরি হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এমনকি বসতবাড়ির দরজা-জানালার গ্রিল, টিউবওয়েল, পানির মোটর, বৈদ্যুতিক তারসহ মালামাল, বাসার খাট-পালঙ্ক পর্যন্ত টার্গেটে পড়ছে।

এসব চোরাই মালামালের গন্তব্য ভাঙ্গাড়ি দোকান।

এলাকাবাসীর দাবি, লোহাগড়া পৌর শহরের ভাঙ্গাড়ির দোকানগুলোর সঙ্গে চোরচক্রের যোগসাজশ রয়েছে। শহরের অর্ধ শতাধিক ভাঙ্গাড়ির দোকানের একাংশে দিনের পর দিন চোরাই মালামাল কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চোরদের নিরাপদ আশ্রয়দাতা হিসেবেও পরিচিত এসব ব্যবসায়ীরা।

গত ২৩ জুলাই রাতের কোনো এক সময় লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশের গ্যারেজ মালিক ফেরদৌসের দোকান থেকে ব্যাটারি, গ্রিল, রেঞ্জ, ড্রিল মেশিন ও ওয়েল্ডিং মেশিনসহ বিভিন্ন লোহার যন্ত্রাংশ চুরি হয়।

এই ঘটনায় রাজু নামের এক চোরকে জনতা হাতে-নাতে ধরে ফেলে। রাজু নড়াইলের সিংগা গ্রামের সত্তার বয়াতির ছেলে। তার কাছে পাওয়া যায় চুরি হওয়া বেশ কিছু সরঞ্জাম। রাজু স্বীকার করে, এসব মালামাল গোপিনাথপুর গ্রামের পলাশ ফকিরের ভাঙ্গাড়ির দোকানে বিক্রি করেছে এবং আগাম ৩ হাজার টাকাও নিয়েছে।

পরবর্তীতে শ্রমিক নেতা প্রিন্স চুরি হওয়া মালামাল পলাশের ভাঙ্গাড়ি দোকান থেকে উদ্ধার করে ফেরদৌসের গ্যারেজে ফেরত দেন।

এলাকাবাসীরা জানান, এর আগেও অনেকবার লোহাগড়া থানা পুলিশ বিভিন্ন ভাঙ্গাড়ি দোকান থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছিল। কিন্তু কোনো চোরদের বড় ধরনের শাস্তি হয়নি। ফলে দিন দিন চুরির প্রবণতা বাড়ছেই। পুলিশ প্রশাসন ও সমাজপতিরা এব্যাপারে অনেকটায় নিরব। তারা যদি ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী ও চোরদের বিরুদ্ধে জোরেশোরে পদক্ষেপ নিতো তাহলে হয়তো চুরি বন্ধ হতো।

এলাকাবাসী দাবী জানান, ভাঙ্গাড়ি দোকানগুলোর লাইসেন্স ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। রাতে গ্যারেজ ও বাড়ির এলাকায় বাড়তি পুলিশি টহল। ধৃত চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করে স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা।

লোহাগড়াবাসীর একটাই দাবি—চুরি বন্ধ হোক, রাতের ঘুম ফিরে আসুক।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, চোরের উৎপাত ঠেকাতে পুলিশ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চুরির যেকোন ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ জনগণও যদি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে পুলিশ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে এসব অপরাধ বন্ধ করতে পারতো।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/এ