আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খানকে ‘ডেথ সেলে’ বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি আইনজীবী ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনটাই দাবি করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ইমরান খানকে ‘ডেথ সেলে’ বন্দি রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম।
তিনি জানান, ইমরান খানকে দিনে ২২ ঘণ্টা একা একটি কক্ষে আটকে রাখা হচ্ছে। তাকে পত্রিকা, টেলিভিশন বা বই পড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি আইনজীবী ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না তাকে।
পিটিআইয়ের এই মুখপাত্র দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানের ছয়জন নির্ধারিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেটিও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিকেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, আর ইমরান খানের বোন আলিমা খান পর্যন্ত তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে আকরাম বলেন, আদালতের আদেশ যেভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তাতে শুধু বিচার বিভাগের মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, বরং দেশের পুরো বিচারব্যবস্থাকে উপহাস করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আকরাম আরও দাবি করেন, কারাগারে বন্দি অন্য পিটিআই নেতাদেরও স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ইস্যুতেও সরকারকে আক্রমণ করেন পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সচিব। আকরাম বলেন, গত ১৫ মাসে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৮২ শতাংশ, যেখানে পিটিআই সরকারের আমলে মাত্র ৫১ রুপি বেড়েছিল। বর্তমান সরকার ভর্তুকি বাতিল করে পেট্রোলের দাম ২২০ রুপিতে তুলে দিয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস