শাহ সাহিদ উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবিদ্বারে গোমতী নদীর উপর নির্মিত কালিকাপুর ব্রিজটিতে মরন ঝুঁকি নিয়ে দৈনিক চলছে শত শত যানবাহন। গত প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে স্টিল দিয়ে সেতুটি নির্মান করার পর এই ব্রিজে হালকা যান ও পথচারী পারাপারের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ব্রিজের দুইপাশে পাকা বেইজে ফাটল দেখা দিয়েছে। পারাপারের জন্য ব্যবহৃত স্টিলের অনেক প্লেইট ফেটেগেছে এবং অনেক নাট বল্টু খুলে পড়েছে। দিন-রাত মরণ ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন ও পথচারী এমনটাই অভিযোগ প্রতিনিয়ত এ রাস্তায় যাতায়াতকারী জনতার।
এবিষয়ে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. বাবুল মিয়া বলেন, আগে মানুষ খেয়ার মাধ্যমে এই গোমতীনদী পারাপার হতো। নদী পারাপার সহজতর করার কথা চিন্তা করে দেবিদ্বারের ৪বারের সাবেক সফল এমপি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গত প্রায় ৩০বছর আগে গোমতী নদীর উপর দেবিদ্বারের কালিকাপুর অংশে প্রথম এই স্টিলের ব্রিজটি নির্মান করেন। এরপর তিনি গোমতী নদীর বিভিন্ন স্থানে নদী পারাপারের জন্য আরও তিনটি পাকা ব্রিজ নির্মান করেন। তবে সবগুলো সেতুর মধ্যে এই ব্রিজে দৈনিক সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে। এই ব্রিজে বহন ক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী মালবাহী ট্রাক পারাপরের কারনে বর্তমানে ব্রিজটি দূর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই ব্রিজটি নির্মানের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন সংস্কার হয়নি। কেউ একটা নাটও টাইট দেয়নি। এই ভাবে চলতে চলতে আজ ব্রিজটির এই বেহাল অবস্থা। বিষয়টি আমরা দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
স্থানীয় এক প্রবাসী মো. জালাল বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজটি দিয়ে শত শত যানবাহনে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এই ব্রিজটি দেবিদ্বার উপজেলার উত্তরাঞ্চল ও ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার সাথে দক্ষিনাঞ্চল এবং সহড়ের একটি গুরুত্ব পূর্ণ সংযোগ মাধ্যম। গত কয়েক বছরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এই ব্রিজ নির্মানের পর থেকে এযাবৎ কোন প্রকার সংস্কার কাজ হয়নি।
সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, দৈনিক স্টিলের এই ব্রিজের উপর দিয়ে ভারী ট্রাকসহ পাঁচশরও বেশি গাড়ি যাতায়ত করে। বর্তমানে এই ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা বহুবার ভারী যান চালকদের নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা কারো কথা শুনছে না, কোনক্রমেই ভারী যানবাহন পারাপার আটকে রাখা যাচ্ছে না। কিছু প্রভাবশালী চালক ও মালিকগণ জোরপূর্বক এই ব্রিজ ব্যবহার করছেন, যার ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ডা. মো: জসিম উদ্দিন বলেন, গোমতী নদীর উপর কালিকাপুর ব্রিজটি অত্র উপজেলার একমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন এই ব্রিজের উপর দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে আসা যাওয়া করে। অতি দ্রুত সেতুটি সংস্কার না করলে এবং ভারী যান পারাপার বন্ধ না করলে যেকোন বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আশাকরি যথাযথ কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত এই ব্রিজটি সংস্কারে কাজ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এই ব্রিজটির ব্যপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
আজকালের কন্ঠ/রাহাত/সাহিদ