Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ১০, ২০২৫ , ৬:২৯ অপরাহ্ণ

নবীন শিক্ষার্থীদের চোখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নুরুল হাকিম বাপ্পি, কুবি প্রতিনিধি : লালমাই পাহাড়ের ছায়ায়, প্রাণের স্পন্দনে মুখরিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। ২০০৬ সালে মাত্র ৭টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৬টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগ নিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। ৫৪ একর জুড়ে বিস্তৃত লালমাটির এই চিরসবুজ ক্যাম্পাস এখন হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ঠিকানা। প্রায় ৭০০০ নিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দিকে।

১লা জুলাই অরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা। তাদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন, আশা আর আকাঙ্ক্ষার আলো। ক্যাম্পাসের প্রথম দিন থেকেই তারা অনুভব করছে নতুন এক জগতের সন্ধান, যেখানে শেখার পাশাপাশি গড়ে উঠবে বন্ধুত্ব, সৃষ্টি হবে নতুন অভিজ্ঞতা।

দ্যা ঢাকা ডায়েরি’র কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নুরুল হাকিম বাপ্পি কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছেন তাদের অনুভূতি, স্বপ্ন এবং ক্যাম্পাস জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ণনা করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী সাকিবুল আলম বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে। সবুজে ঘেরা প্রশান্ত পরিবেশ, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নির্মিত নীরব নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসটা যেন আমার স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। এখানকার প্রকৃতি যেমন মনকে ছুঁয়ে যায়, তেমনি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সিনিয়রদের আন্তরিকতা, শিক্ষকদের বন্ধুসুলভ আচরণ, আর বন্ধুদের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত সব মিলিয়ে কুবি আমার কাছে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং একটি নতুন পরিবার, নতুন জগৎ। আমার বিশ্বাস এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে কেবল পুথিগত বিদ্যাই নয়, বরং মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথ দেখাবে।’

আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার নীলা বলেন, ‘পাহাড় আর সবুজের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক জীবন্ত প্রেরণার নাম। এই ক্যাম্পাসে পা রাখার সাথে সাথেই যে চোখগুলো একদিন স্বপ্নে ভরা ছিল, সেগুলো বাস্তবের রূপ পেয়েছে। এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি ক্লাসরুম, প্রতিটি করিডোর, ক্যাম্পাসের প্রতিটি ধূলিকণা যেন বলে ওঠে,
“তুমি পেরেছো, আর পারবে আরও বহু কিছু।”

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দিবে না, বরং শেখাবে জীবন কাকে বলে, সংগ্রাম কীভাবে আলোকিত করে ভবিষ্যৎ। আমি মনে করি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, নিরলস পরিশ্রম আর সম্ভাবনার এক বিশাল জগৎ হবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। একসময় দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আমি আজ গর্ব করে বলতে পারি আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমার স্বপ্ন, আজ আর দূরের আলো নয়, সে এখন ঠিক আমার হাতের মুঠোয়।’

ইংরেজি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মেহরিন ইয়াসমিন তিশা বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের নাম। এই ক্যাম্পাসটি শুধু যে সবুজের বুকে লাল ইট পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তা নয়, এটি স্বপ্ন বোণা এক মধুর আবাস। প্রকৃতির মাঝে কৃষ্ণচূড়া ফুল দিয়ে আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি যেন ফুলের রাজ্যের মতো রাজত্ব করছে। আবেগ মিশানো, স্বপ্ন জড়ানো, জ্ঞানের আলো ছড়ানো, ছবির মতো সুন্দর করে সাজানো গোছানো প্রিয় ক্যাম্পাস ।

তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাস জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকবে আমাদের লাল এবং নীল বাসগুলো। প্রথম যেদিন এই নীল রঙের বাসটা দেখেছি ভেবেছিলাম আমি কি পারবো এই লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের নীল রঙের বাসে উঠতে? যেখানে গল্প, হাসি, ক্লান্তি সব মিলেমিশে একাকার। ক্লাসের চাপ, আর বন্ধুদের আড্ডার মধ্যে একটুখানি প্রশান্তির আশ্রয়। আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি এমন‌‌ একটি আবাস যেখানে আমার মতো লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পূর্ণতা পায়।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়” এই শব্দটা আমার জীবনের এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলাম, মনে হয়েছিল যেন একটা নতুন দুনিয়ার দরজা খুলে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় আমার আবেগের জায়গা। এখানে এসে প্রতি নিয়ত শিখছি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্নের জায়গা। এখান থেকেই আমার অ্যাকাডেমিক জীবনের মোড় ঘুরানোর সময় শুরু হয়েছে। প্রথম যেদিন ক্যাম্পাসে পা রেখেছিলাম, মনে হয়েছিল যেন স্বপ্নের ভেতর হাঁটছি। ছোটবেলা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিল। আল্লাহর কি অশেষ রহমত আমার সেই ছোটবেলার স্বপ্ন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে পূরণহয়েছে। পাহাড়, সবুজ বন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তা, মুক্ত আকাশ সব কিছু মিলিয়ে কুবি এক অপার শান্তির জায়গা।’

তিনি আরো বলেন, ‘১লা জুলাই আমাদের অরিয়েন্টেশন ক্লাস ছিল। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ক্লাস রুমের সব কিছু আমার কাছে নতুন। আমাদের ডিপার্টমেন্টের টিচার্স, ব্যাচমেট ও ইমিডিয়েট সিনিয়র সবাই কে দেখে অন্য রকম অনুভব হচ্ছিল। কারন আমার কাছে তখন সবই অপরিচিত মুখ। আমি সেদিন দেখেছি ডিপার্টমেন্টের টিচার্সদের আমাদের প্রতি তাদের কত আন্তরিকতা এবং ইমিডিয়েট সিনিয়রদের আমাদের প্রতি কতটা দায়িত্ববোধ।’

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/হাকিম

প্রিন্ট করুন