বিশেষ প্রতিনিধি : শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটে সুমি ফুড প্রোডাক্টস্ এর মালিক হুকুমাআলী শেখের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট তৈরির অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়,সুমি ফুড প্রোডাক্টসে্র মালিক হুকুমাআলী শেখ দীর্ঘদিন যাবত সেমাই এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট তৈরি করে আসছেন তার কারখানায় এবং এগুলো শরীয়তপুর জেলা শহর বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন।
নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই তিনি বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে আসছেন তার কারখানায়।
অভিযোগ রয়েছে,হুকুম আলী শেখ তার কারখানায় নিম্নমানের প্রোডাক্ট দিয়ে সেমাইসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্কিট তৈরি করছেন। তার কারখানা রয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নেই।কোন নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই তিনি কারখানা পরিচালনা করছেন।
শনিবার (৬ জুলাই) সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা যায়, একাধিক অভিযোগের সততা রয়েছে, হুকুম আলী শেখের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ব্রেড, সেমাইসহ বিভিন্ন ধরনের কেক বিস্কিট থেকে শুরু করে নানা ধরনের বেকারী খাদ্য সামগ্রী বিস্কুট। কারখানাটিতে তৈরি করা খাবারে বসছে মাছি ।কিছু খাবার ফ্লোরে ধুলোবালি ময়লার মধ্যে রাখা আছে। বিভিন্ন রকমের বিস্কিট তৈরির যে ডাইস রয়েছে তাও ময়লা দিয়ে ভরা। কারখানাটিতে কিছু কৃত্রিম রঙ্গের দিব্যা দেখতে পাওয়া যায়। নিম্নমানের ময়দা, পামওয়েল এবং ঘি, রঙ এসব দিয়ে খাদ্য সামগ্রি তৈরি করা হচ্ছে। কারখানার ভেতরে আলো বাতাসের ব্যবস্থা নেই।যেখানে সেমাই তৈরির কারখানায় আলো বাতাস প্রবেশের সুবিধাসহ উন্নত ব্যবস্থাপনা কারিগরের এপ্রোন ও বিশেষ ধরনের হাত মোজা পড়া বাধ্যতামূলক। সেমাইর উপকরণ হিসেবে উন্নত ময়দা ভেজিটেবল ফ্যাট অয়েল, ডিম, ঘি, ডালটা ব্যবহার করার কথা। সেখানে অত্যান্ত নিম্নমানের প্রোডাক্ট দিয়ে তৈরি হচ্ছে, সেমাই সহ বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট। কারখানার ফ্লোরে রয়েছে ধুলোবালি, কারখানা শ্রমিকদের শরীরে এপ্রোন নেই,বিশেষ ধরনের হাত মোজা নেই, খালি হাতে আটা ছানাচ্ছে বরং খোলা ও ঘর্মাক্ত শরীরে কাজ করছে শ্রমিকেরা। কারখানাটিতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক হুকুম আলী শেখ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কারখানায় আগে কাগজপত্র ছিল এখন নেই নতুন করে বানাতে হবে।অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা উচিত। যেখানে কোন কারখানায় খাদ্য সামগ্রি তৈরি করতে হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক এবং
উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নথি, গুনমান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নথি, কাঁচামাল সংগ্রহ ও বিতরণের নথি,প্যাকেজিং ও লেভেলিং সংক্রান্ত নথি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নথি থাকা দরকার হয়।
অপরপক্ষে সুমি ফুড প্রোডাক্ট এবং কারখানার মালিক হুকুমআলী শেখ কোন ধরনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয়।
সচেতন মহল বলেন, এসব অস্বাস্থ্যকর অনুমোদনহীন কারখানা থেকে সরকার পাচ্ছে না কোন ভ্যাট ফলে হারাচ্ছে রাজস্ব। অপরদিকে এসব ভেজাল বিস্কুট ও সেমাই খেয়ে মানুষের পেটের পীড়াসহ নানা রোগে ভুগতে হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসীর দাবি কারখানাটির দিকে প্রশাসন যেন নজর দেয় এবং সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এক শ্রেণীর অসাধু ও মৌসুমী ব্যবসায়ের মাধ্যমে বাজারজাত হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাজিরা (৫০ শয্যাবিশিষ্ট ) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক অফিসার (আরএমও) রোমান বাদশা বলেন, খাদ্য ভেজাল এবং অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য তৈরি করা হলে পেটের পীরাসহ নানা প্রকার রোগ,ডায়রিয়া হতে পারে।তাই অপরিষ্কার, নোংরা পরিবেশে তৈরি করা খাবার সম্পর্কে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে।
জাজিরা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, মোবাইল কোর্টের আওতায় নোংরা অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী ও প্রক্রিয়াকরণ একটি দন্দনীয় অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি/বি