Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ৫, ২০২৫ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

ট্রিপল মার্ডারে কাঁপল জনপদ,গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষহীন গ্রাম!

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

কাজী শরীফ,কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ী গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন অধিকাংশ পুরুষ সদস্য। শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়িঘর ফাঁকা, অনেক ঘরে তালা ঝুলছে, রাস্তায় নেই কোনো পুরুষ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে মুরাদনগরের আকবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামে ঘটে যায় বিভীষিকাময় এ ঘটনা। নিহতরা হলেন—জুয়েল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি (৫৫), ছেলে রাসেল মিয়া (২৮) ও মেয়ে জোনাকি আক্তার (২৩)। আরেক মেয়ে রুমা (২৮) গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে।

নিহত রাসেলের স্ত্রী মীম আক্তার বলেন, “রুবির বাড়ির সামনে ৮০-৯০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে আসে।প্রথমে ইট ছুড়ে, তারপর বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে হত্যা করে। মেয়েরাও রেহাই পায়নি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হামলায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল। এক বাসিন্দা বলেন, “চেয়ারম্যান শিমুল আর মেম্বার বাচ্চু সামনে ছিলেন। লোকে বলছিল, ‘চেয়ারম্যান সাহেব আছেন, কিছু হবে না।’ এরপরই পিটুনি শুরু হয়।”

নিহত রুবির আত্মীয় হানিফ মিয়া বলেন, “যারা মারল তারা সাধারণ গ্রামবাসী না, পেছনে প্রভাবশালী লোকদের সমর্থন ছিল বলেই সাহস পায়। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।
সে আরো বলেন অপরাধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না হলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।”

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ অবশ্য নিজের দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরাই প্রথমে হামলার শিকার হয়ে এলাকা ছাড়ি। পরে উত্তেজিত জনতা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”

এদিকে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “এখনো মামলা হয়নি, তবে অভিযান চলছে। কাউকে এখনো আটক করা যায়নি।”

কুমিল্লা পুলিশ সুপার নজির আহমেদ খান বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তদন্ত চলছে, কেউ দায় এড়াতে পারবে না। নিহত পরিবারের ওপর আমরা মামলা করতে চাপ সৃষ্টি করছি না, তাদের সময় দিচ্ছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে যুক্ত ছিল। তবে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করেই এই রক্তক্ষয়ী হামলার সূত্রপাত হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কড়ইবাড়ী গ্রামে এখন নিস্তব্ধতা, ভয়ের ছায়া। আইনের শাসনের বদলে গণপিটুনির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

 

প্রিন্ট করুন