Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ২৫, ২০২৫ , ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

ভালোবেসে বিয়ে, তারপর নির্যাতন

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ সাহাবুল আলম. বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : ভালোবাসার আশ্বাসে জীবন গড়তে চেয়েছিলেন মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস। বিশ্বাস করেছিলেন একজন মানুষকে, যিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সংসার করার। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়। প্রতারণা, নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, এমনকি মৃত্যুর হুমকি—সবকিছুই যেন এক মর্মান্তিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জীবনে।

দিনাজপুর জেলার চিন্তামন গ্রামের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ঢাকার টুঙ্গীতে ‘নর্দান গ্রুপ’-এর একটি কোম্পানিতে চাকরি করার সময় পরিচয় হয় নাটোরের বড়াইগ্রামের চড়ইকোল গ্রামের মোঃ হাসানুর রহমান হাসানের সঙ্গে। ধীরে ধীরে প্রেম গড়ে ওঠে এবং পরে হাসান তাকে গোপনে বিয়ে করে। ২ লাখ টাকা কাবিনে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হলেও হাসান লুকিয়ে যায় প্রথম স্ত্রীর খবর।

দু’মাসের সংসার শেষে একদিন হাসান হঠাৎই ভাড়া বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায় নিজ বাড়িতে। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস নিজেই হাসানের গ্রামের ঠিকানা বের করে বড়াইগ্রামের বাড়িতে গেলে, জানা যায় তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের কথা। এরপর যা ঘটেছে, তা কোনো নারীর জন্যই কল্পনাতীত।

তিনি অভিযোগ করেন, হাসান ও তার ভাই হারুন তাকে একটি ঘরে আটকে অমানবিক নির্যাতন করে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করে তোলে। শ্লীলতাহানিও করে এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন তাকে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। নানা প্রলোভন ও হুমকির মধ্য দিয়ে ফের তাকে হাসানের বাড়িতে এনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো—বাধ্য করে ডিভোর্সের কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় মধ্যরাতে। এরপর এক অটোভ্যানে করে তাকে গুরুদাসপুরের কাচিকাটা টোল প্লাজায় ফেলে যায় অভিযুক্তরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি ওই মেয়েটিকে বৈদ্যুতিক পোলের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে। তখন সাহস করে আগাইলে তারা মেয়েটিকে ঘরে আটকে রাখে।”

বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ঢাকার আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপসংহার :
একজন নারীর জীবনভর বিশ্বাস আর ভালোবাসার বিনিময়ে পেয়েছেন প্রতারণা আর পাশবিক নির্যাতন। এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

প্রিন্ট করুন