Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ২২, ২০২৫ , ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

বাঙ্গরা থানা অফিসার ইনচার্জ বদলি নয়, মাদক বিরোধী কার্যক্রম থামাতে অপপ্রচার

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

শাহ সাহিদ উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসিকে বদলি করার অপপ্রচার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইয়াবাসহ আটক শেখ জুয়েলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক চক্র অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমানকে সরিয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার চালাচ্ছে। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, শেখ জুয়েলের মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ : আটক ও মৃত্যু: গত ১৯ জুন বৃহস্পতিবার বাঙ্গরা গ্রামের উত্তর পাড়ার মাদক ব্যবসায়ী হেলাল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শেখ জুয়েলসহ পাঁচজনকে ৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। আটকের পর শেখ জুয়েল বুকে ব্যথার কথা জানালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায়, থানায় আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অপপ্রচারের অভিযোগ : স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ জুয়েলের মৃত্যু হৃদরোগে হলেও ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে অফিসার ইনচার্জকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। একটি প্রভাবশালী মহল, যারা ওসির মাদকবিরোধী অভিযানে বিরক্ত, তারা এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘নির্যাতনের নাটক’ সাজিয়ে ওসির বদলি চাইছে।
রাজনৈতিক বিভেদ : শেখ জুয়েলের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিএনপি তাকে তাদের কর্মী বলছে, আবার ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন তিনি ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই বিভেদ থেকেই বোঝা যায়, ঘটনাটিতে রাজনৈতিক রঙ চড়ানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য : বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আটকের পরই জুয়েল বুকে ব্যথার কথা জানালে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কোনো প্রকার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। কুমিল্লা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খানও জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্টে বড় ধরনের জখম নেই, হালকা আঁচড়ের চিহ্ন আটকের সময় হতে পারে। তদন্ত চলছে এবং রিপোর্ট আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতামত : সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই না করে পুলিশের বিরুদ্ধে এই প্রচারণা ওসিকে বদলি অপপ্রচারেরই অংশ এবং এর উদ্দেশ্য শুধু একজন কর্মকর্তাকে নয়, বরং মাদকবিরোধী অভিযানকে থামিয়ে দেওয়া। নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক বিচার না হলে এমন অপপ্রচার ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

আজকালের কন্ঠ/রাহাত/সাহিদ

প্রিন্ট করুন