মোঃ রায়হানুল হক রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির অবদান তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু’র গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় ।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন বুলু আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে সাধারণ জনগণের মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি’র অবদান তুলে ধরে গনসংযোগ ও কুশল বিনিময় করছেন।
শনিবার (২১ জুন) তারই ধারাবাহিকতায় আত্রাই উপজেলার বারুনীতলা বাজার, সদুপুর, মহাদীঘি, মাধায় মুড়ি এবং সাহাগোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তারেক রহমানের ৩১ দফা সামনে রেখে এদেশের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি’র অবদান তুলে ধরে বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও জনসাধারণের মাঝে গনসংযোগ ও কুশল বিনিময় করেন। এসময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উপচে পড়া ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ বনিতার উপস্থিতি আবারোও মনে করিয়ে দেয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল” বিএনপি’র কথা। অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় সম্পূর্ণ করেন ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বুলু।
গনসংযোগকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন পথসভায় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন, “আপনাদের নিশ্চয় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার কথা মনে আছে। তৎকালীন সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ডাক দেন। তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং দেশ স্বাধীনে অবদান রেখেছিলাম। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে, যার ফল শ্রুতিতে সংঘটিত হয় সিপাহী জনতার আন্দোলন। সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান সরকার গঠন করেন। সরকার গঠনের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মানুষের দুঃখ- দুর্দশা অনুধাবনের জন্য প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান। তাদের দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন দূরীকরনে এবং এদেশের উন্নয়নে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে গেছেন। কৃষি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সেক্টরে তার যে, অবদান তা শুধু দেশবাসীই নয় পুরো বিশ্ববাসী আজীবন মনে রাখবে। এদেশের কৃষিখাতে উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা পরিলক্ষিত হয় তার সূচনাই করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন এদেশের রাখাল রাজা।”
এসময় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা ভুলে যাবেন না আমরা এখনও ক্ষমতায় যাইনি। সামনের দিন যদি আমরা ভালো আচরণ করি, ভালোভাবে চলাফেরা করি, মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারি এবং মানুষ আমাদের কে যদি ভোট দেয়, তাহলে আমরা নির্বাচিত হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠটা নিয়েই সংসদে যাবো। ক্ষমতায় গিয়ে আমাদের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, যদি মানুষ কে আমরা সন্তুষ্ট করতে না পারি তাহলে আমাদেরকেও আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাস আমাদের থেকে দলের নেতাকর্মীদের থেকে আপনারাই ভালো জানেন। বিএনপি’র উপর আপনারা আস্থা রাখতে পারেন ইনশাআল্লাহ। বিএনপি এ অঞ্চল সহ সারাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করবে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই সেই উন্নয়নের সহযাত্রী হতে আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন এবং আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হতে পারলে আমার নির্বাচনী এলাকা আত্রাই-রাণীনগরের মানুষের সকল ধরনের সমস্যার সমাধানে এবং উন্নয়নে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ।”
আজকালের কন্ঠ/রাণী/রায়হানুল হক