Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ২০, ২০২৫ , ৩:২৭ অপরাহ্ণ

বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম ও দুই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী লোকমান সিকদার—উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারের দেশ টেলিকম নামে একটি বিকাশ ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নিজস্ব ভবনে অবস্থিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বুথে জমা দিয়ে আসছিলেন।

লোকমান জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ৩১৯ টাকা ওই ব্যাংক বুথে জমা দিয়েছেন এবং প্রতিবার রশিদ গ্রহণ করেছেন। বুথটির দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, পূর্বে বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও পুনরায় সেই বকেয়া বিল আসছে। বিষয়টি জানতে লোকমান ব্যাংক বুথে গেলে জানতে পারেন, ৪০ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ২৮ লাখ টাকা জমা হয়েছে, বাকি টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে লোকমান ব্যাংক কর্মকর্তা সাজ্জাদের কাছে কয়েকবার জানতে গেলে সাজ্জাদ বিষয়টি আঁচ করে চুপিসারে চট্টগ্রামে অন্য একটি শাখায় বদলি হয়ে যান।

লোকমান পরবর্তীতে বিষয়টি তৎকালীন ডিজিএম গোবিন্দ চন্দ্র দাসকে জানান। তিনি প্রাথমিকভাবে অফিসে জমা থাকা বিলের পুরোনো কাগজপত্র দেখতে দেন এবং অমিল দেখতে পেয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। অভিযোগ করার পর কিছুদিনের মধ্যে ডিজিএম জানান, “এটা ব্যাংকের বিষয়, আপনি ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে আবেদন করুন।

পরবর্তীতে লোকমান ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে আবেদন করলে ঈদের আগের একদিন সাজ্জাদ ও লোকমানের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠকের দিন নির্ধারণ হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে ব্যাংক ম্যানেজার বিষয়টি এড়িয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ম্যানেজার, সাজ্জাদ ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উল্টো লোকমানকে অবশিষ্ট টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকেন। চরম আর্থিক চাপে পড়ে লোকমান জমি-জমা বিক্রি করে প্রায় ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট সামান্য টাকা পরিশোধে সময় চেয়ে অনুরোধ জানালেও ডিজিএম বদলি হয়ে যান এবং ওই ব্যাংক বুথটি বন্ধ হয়ে যায়।

অবশেষে গত ২১ মে ২০২৫ ইং তারিখে লোকমান সিকদার বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর: ২০২৫/বাকেরগঞ্জ।

এসব বিষয়ে বর্তমান ডিজিএম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন “ আমি নতুন এসছি, এস বিষয়ে আমি অবগত নয়” এছাড়া আর কিছু বলতে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রিন্ট করুন