মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা ও বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দীর্ঘ সেনা ক্যারিয়ার শেষে অবসর গ্রহণ করা এই ব্যক্তিত্ব তার সুনাম ও জনপ্রিয়তার কারণে এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। তবে তার মনোনয়ন ও নির্বাচনী সম্ভাবনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
দিনাজপুরের-৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) উপজেলার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা, যার নেতৃত্বে এলাকায় উন্নয়ন ও শান্তি ফিরে আসবে।
স্থানীয় চন্ডিপুর গ্রামের সাহেদ আলী বলেন,আমাদের আশা, কর্নেল সাহেব আসলে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। তিনি মানুষের সমস্যা বুঝেন এবং তা সমাধানের জন্য কাজ করবেন।
জয়গঞ্জ বাজারের চায়ের দোকানদার ফারুক হোসেন, তার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সৎ ও দায়িত্বশীল নেতা। তার প্রতি আমাদের আস্থা অনেক বেশি।
মরিয়ম বাজারের চায়ের দোকানদার মোকবুল হোসেন ও নাজমুল বলেন, তার প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেশি। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজও তাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে। খানসামা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী হাসনা বলেন,নারীদের জন্য তার পরিকল্পনা ও চিন্তা-ভাবনা আমাদের অনেক আশা দিয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আলোচনা করেছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনা ক্যারিয়ার থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতা তার কঠোর শৃঙ্খলা, অঙ্গীকার ও মাঠপর্যায়ের দক্ষতায় ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
তবে, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শক্তিও কম নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
ভেড়ভেড়ী, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া, ভাবকী ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তারা চান, নির্বাচিত হলে মোস্তাফিজুর রহমান সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে এলাকার সমস্যার সমাধান করবেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বিএনপির জন্য দিনাজপুর-৪ আসনে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে শক্তিশালী কার্যক্রম চালানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবেলা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, প্রার্থী হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা তাকে সুবিধা দেবে, তবে ভোটারদের কাছে তাঁর বক্তব্য ও পরিকল্পনা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্বাচন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। তার জনপ্রিয়তা ও দলের সমর্থন তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলেছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে তার সাফল্য নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল, স্থানীয় জনমত এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থানের ওপর।
দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পরই এ অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে এবং ভোটারদের চূড়ান্ত মনোভাব জানা যাবে।