
শাহ সাহিদ উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লা চান্দিনায় সরকারি গাছ আত্মসাৎ করে বিক্রির অভিযোগ, এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
চান্দিনা উপজেলার ৫ নং কেরনখাল ইউনিয়নের সরকারি গাছ আত্মসাৎ করে বাড়ীর কাজে ব্যবহার ও বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ৫নং কেরনখাল ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের ছয়ঘরিয়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিায়ার পুত্র রুহুল কুদ্দুস মাহিন এর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, ঢাকা- চট্টগ্রাম হাইওয়ে সড়ক সংলগ্ন নুরিতলা থেকে ইউপির ২নং ওয়ার্ডের কোরের পার হতে শুরু করে কোয়ার পার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে করই গাছ সহ বিভিন্ন রকমের বৃক্ষ রোপণ করেন কোরের পার এলাকার মো মফিজুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। তম্মধ্যে ২৭ /৫/২৫ ইং ৫নং কেরনখাল কোরের পার গ্রামের দেলোয়ারা বেগমের পুএ সাবেক ছাএলীগ নেতা সালমান সাকিবের নেতৃত্বে কোনরকম অনুমতি না নিয়ে মফিজ উদ্দিন এর রোপণকৃত বৃক্ষ হতে ৫টি করই বৃক্ষ কাটা ও সরকারী খাল ভরাটের অভিযোগ তোলে এলাকাবাসী। গ্রামবাসীর পক্ষে ১,২,৩,নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রেহেনা পারভিন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাইব হোসেন এর নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে এসিল্যান্ডের নিকট যোগাযোগ করতে বলেন এরই প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ডের নিকট যোগাযোগ করলে আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন আমি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তৎকালীন চেয়ারম্যান সুমন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ৫ টি গাছের ১৫ টি ৮” লম্বাচওড়া সেও গুলো ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া এর যুগসাজসে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস মাহিন এই গাছগুলো নিয়ে তার ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করে বাকী গাছগুলো বিক্রি করে দেয়। তবে আমি রুহুল কুদ্দুস মাহিন সহ প্যানেল চেয়াম্যান এর মিটিংয়ে সকল মেম্বারদের উপস্থিতিতে আমি রিকোয়স্ট করেছি আমার গাছগুলো দিয়ে দেন আমাকে আস্বাস দিয়েছে পরবর্তিতে রুহুল কুদ্দুস মাহিন তার ব্যাক্তিগত কাজে অনিয়ম ভাবে ব্যাবহার করে বলে আমি জানি।
৫নং ওায়ার্ড ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মজুমদার এর পুএ মোকাররম মজুমদার বলেন এ বিষয়টি খারাপ এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। শুধু গাছ নিছে বিষয়টা এরুকমন না ইউনিয়নে সরকারী বরাদ্ধ আসে তার ইচ্ছেমত বন্টন করে এ বিষয়গুলো পরিষদের মিটিং এ বলেছি। মাহিন যে ভাবে চালাইতেছে এভাবে চলতে থাকলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট সহ এলাকার নিরীহ জনগন সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের এই ইউনিয়নে টিসিবির ১০০০ কার্ডের মধ্যে মাএ ৮০/৯০ টি কার্ড অনলাইন হইছে। আমি এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম মিয়ার ব্যাক্তি গত সহকারী মো মোতাল্লেব এর নিকট জানতে চাইলে আগের বরাদ্ধের কার্ড উলোট পালট করে মাহিন তার পছন্দের লোকদের কার্ডের তালিকা দেওয়ার কারনে অনলাইন থেকে ডিলেট হয়ে যায়। যার ফলে এলাকার সাধারন জনগণ টিসিবির পন্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত। রুহুল কুদ্দুস মাহিন এর এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে সাধারণ জনগণ পতিকার চায়। তিনি আরোও বলেন গত বছরের গ্রামিণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত কাজগুলে প্যানেল চেয়ারম্যান এর উপর প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নিয়ে এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ গুলো না করে তার বাড়ীর ব্যাক্তিগত রাস্তায় কাজ করেন পাশাপাশি বিভিন্ন মেল দরবার থেকে ঘুষ লেনদেনেরও অভিযোগ আছে বিভিন্ন মহলে।
এ বিষয়ে মৃত জয়নাল আবেদিনের পুএ বুলবুল আহাম্মেদ ভূইয়া বলেন রুহুল কুদ্দুস মাহিন এর চাঁদাবাজি মেল দরবার থেকে টাকা নেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কর্মী সহ সাধারণ জনগণ তার প্রতি ক্ষিপ্ত। গাছ নেওয়ার বিষয়ে আবদুল রুহুল কুদ্দুস মাহিন এর মোঠুফোনে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা আমাকে হেয় করার জন্য এ অপবাদ দিচ্ছে।
উক্ত বিষয়ে ৫ নং কেরনখাল ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কে একাধিক বার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি তাই তার বক্তব্য নিতে পারিনি।
এ বিষয়ে জানতে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসরাফুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ এর বিষয়ে আমার জানা নেই তবে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :