কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : স্ত্রীর স্বাধীন চলাফেরায় স্বামীর আপত্তিতে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন স্ত্রী মোসা. সুমি আক্তার। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ঘরে না ফিরায় বিপাকে পড়েছেন স্বামী মো. আশিকুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলাম ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কুয়াকাটা এলাকার মো. ইউসুফ হাওলাদারের কন্যা মোসা. সুমি আক্তারের সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে সম্পর্ক মধুর থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী বাবার বাড়িতে অধিক সময় কাটাতে শুরু করেন।
স্বামীর দাবি, “আমার স্ত্রী আমার গ্রামে স্থায়ীভাবে থাকতে অনীহা প্রকাশ করে। আমার বাড়িতে ১০ দিন থাকলে বাবার বাড়িতে এক মাস অবস্থান করে। বাবার বাড়িতে থাকলে সে তার মতো চলাফেরা ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে আড্ডা-ভ্রমণ করতে পারে। এসব কাজে বাধা দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সন্তানসহ স্ত্রী কুয়াকাটার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। একাধিকবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সাড়া মেলেনি। বরং সুমি আক্তার ও তার পরিবার পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে কুয়াকাটায় এসে বসবাসের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তারা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন এবং সন্তানকেও তার সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে দিচ্ছেন না।
আশিকুল ইসলাম বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার করতে চাই। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা পাইনি।”
এ বিষয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা মো. ইউসুফ হাওলাদার বলেন, “অনেক বিষয় আছে। তবে মেয়েকে ওই বাড়িতে পাঠানোর মতো পরিবেশ এখন আর নেই।”
স্থানীয়রা জানান, দাম্পত্য কলহ নিরসনে উভয়পক্ষের সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া জরুরি। নইলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, এমনকি বিচ্ছেদ ঘটনাও ঘটতে পারে।