Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ১৪, ২০২৫ , ৫:৪৬ অপরাহ্ণ

পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘ট্যুর এক্সপার্ট’ গ্রুপের এডমিন বর্ষা গ্রেফতার

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি : বান্দরবানের আলীকদমে ক্রিসতং-রুংরাং পাহাড় ট্র্যাকিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে স্মৃতি আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় ভ্রমণভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপ ‘ট্যুর এক্সপার্ট’ এর এডমিন বর্ষা ইসলাম বৃষ্টিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

(১৪ জুন) শনিবার নিহত স্মৃতি আক্তারের বাবা মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আলীকদম থানায় দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় মামলার পর তাকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্ষা ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কেউ অবহেলা বা অসাবধানতার কারণে কারো মৃত্যুর কারণ ঘটায়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

গ্রেফতারকৃত বর্ষা ইসলাম যশোর জেলার চৌগাছা থানার জগদীশপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলামের কন্যা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা ইসলাম ‘ট্যুর এক্সপার্ট’ ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে নানা ট্যুর আয়োজন করতেন। চলতি মাসের ৮ জুন স্মৃতি আক্তার গ্রুপের একটি ট্যুরে অংশ নিতে আলীকদমে যান। পরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১৩ জুন তৈন খালের মোড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, বর্ষা ইসলাম স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই ৩৩ জন পর্যটক নিয়ে ট্যুরটি পরিচালনা করেন। শুধুমাত্র সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা নামে একজন গাইড ছিল ট্যুরে। আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়। ৯ জুন তারা রুংরাং-ক্রিসতং এলাকার দিকে যাত্রা করেন।

১০ জুন বর্ষা ইসলাম ১২ জন পর্যটক ও গাইডসহ অন্য রুটে গেলে, বাকিরা- যাদের মধ্যে ছিলেন স্মৃতি আক্তার ও মো. হাসান চৌধুরীর নেতৃত্বে গাইড ছাড়াই পাহাড়ি পথে আলীকদম সদরের পথে রওনা হন। ১১ জুন বিকালে শামুক ঝর্ণা এলাকায় পাহাড়ি ঢলে তিনজন নিখোঁজ হন। এবং পরদিন ১২ জুন শেখ জুবাইরুল ইসলামের মরদেহ এবং ১৩ জুন স্মৃতি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মো. হাসান চৌধুরী এক পর্যটন।

মামলার বাদী স্মৃতির বাবা অভিযোগ করেন, বর্ষা ইসলামের দায়িত্বহীনতা, অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে বর্ষা ইসলাম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, তিনি একটি পাঁচ দিনের ভিন্ন ট্যুরে ছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে অন্য একটি তিন দিনের ট্যুরে, যার দায়িত্বে ছিলেন নিখোঁজ কো-অপারেটর মো. হাসান চৌধুরী।

প্রিন্ট করুন