Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৩:১৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ১৪, ২০২৫ , ২:৫২ অপরাহ্ণ

আলীকদমে বিদ্যুতে খুঁটি বসাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনসুর আর বুলবুলের বিরুদ্ধে

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ জয়নাল আবেদীন, বান্দরবান প্রতিনিধি : নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার মানুষ। এমনিতে দিনে ৪-৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। তার উপর শীত, গ্রীষ্ম অথবা বর্ষা সব ঋতুতেই গাছ ছাঁটার অজুহাতে বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত।

এরমধ্যেই পাওয়া গেছে বিদ্যুতে খুঁটি বিতরণে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার তথ্য। যার সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন আলীকদম উপজেলায় দায়িত্বরত (বিদ্যুৎ) সাহায্যকারী বুলবুল আর মনসুর আলম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ এবং বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের খুঁটি সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সরকারী ড্রয়িং এলাকায় তথ্য গোপন করে এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে লাইনম্যান বুলবুল আর মনসুর আলম যেখানে টাকা ভাগবাটোয়ারায় জড়িত রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ক্যাশিয়ার।

রোয়াম্ভু আর মংচাপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, বিদ্যুতের একটি খুঁটির জন্য (৫ থেকে ৬ হাজার) টাকা পর্যন্ত পাড়ার লোকজন হতে তুলে প্রায় ৪০থেকে ৬০হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নেয় বিদ্যুতে বিভাগের আলীকদমের লাইনম্যান বুলবুল আর মনসুর আলম নামে দুজন ব্যক্তি। যেখানে জড়িত রয়েছে ঠিকাদারের ক্যাশিয়ারও। অর্থ হাতিয়ে নেওয়া থেকে বাদ পড়েনি রোয়াম্ভু এলাকার বাসিন্দার আব্দুর রশিদ নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও।

তারা আরো জানান, গতবছর রোয়াম্ভু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কথা ছিল মনসুর আর বুলবুল টাকার অফার দিয়েছিলেন আমাদের। কিন্তু এলাকার লোকজন টাকা দিতে না পাড়ায় খুঁটি আর বসানো হয়নি। আমরা অসহায় তাই এখন এলাকার সবাই মিলেমিশে টাকা দেওয়াই বিদ্যুতের খঁটি বসিয়ে দিয়েছে।

মনসুর আর বুলবুলের বিরোধে অভিযোগ উঠেছে, গ্রামের সর্দার/কারবারি এবং বিশেষ কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আলীকদম বাজার মার্মা পাড়া, নয়াপাড়ার আব্বাস কারবারি পাড়া, মংচাপাড়া, কলারঝিরি। চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের তারাবুনিয়া, মংহ্লা পাড়া, শিবাতলী এসব এলাকা হতে ঘরপ্রতি (২হাজার থেকে ৫হাজার) টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করে বুলবুলের হাতে টাকা জমা হওয়ার পর বিদ্যুতের খুঁটি দেয় বলেও জানান তারা।

তারাবুনিয়ার এলাকার এক পরিবারের কাছ থেকে বিদ্যুতের খুঁটির জন্য ৩০হাজার টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই এলাকার লোকজন। তবে তথ্য দিলে লাইন কেটে দেবে এই ভয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেননি ব্যক্তিটি। ওই এলাকার জনসাধারণ জানিয়েছেন, বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে পরিবার প্রতি ২-৩ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে সর্দার কবির হোসেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না হওয়াতে টাকা ফেরত দেয় ঠিকাদার। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে টাকা ছাড়াই খুঁটি বসানো হয়েছে বলে জানান সর্দার কবির হোসেন।।

এসব বিদ্যুতের খুঁটি সংগ্রহ করা হয় ড্রয়িং এলাকা থেকে। বিশেষ একটি সূত্র জানায়, একটি খুঁটি থেকে অন্য একটি খুঁটির দূরত্ব ১০০ ফুট হওয়ার নিয়ম থাকলেও খুঁটি বসানো ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশ করে এর দূরত্ব বাড়িয়ে কয়েকটি খুঁটি বাঁচিয়ে নেয়া হয়। যা পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে চাহিদা সম্পন্ন ব্যাক্তি অথবা এলাকায় বিক্রি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সহযোগী বুলবুল বলেন, টাকা নেয়ার ব্যাপারে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আলীকদম উপজেলার সরকারী ড্রইং তার কাছে নেই, যারা অভিযোগ করেছে তারা আমাকে চিনে কি না সন্দেহ আছে। তবে বুলবুলের সহযোগী মনসুর আলম মুঠোফোনে টাকা নেওয়ার বিষয়টি শিকার করে বলেন, যোগেন্দ্র কারবারি পাড়ার এক দোকান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দাগে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছি বিভিন্ন খরচের জন্য খুুঁটি বসানো পর আরো কিছু টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে বিভিন্ন খরচের জন্য। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

লামা বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী আবাসিক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদক কে মুঠোফোনে জানান, যে এলাকা হতে টাকা উত্তোলন করেছে বিদ্যুত বিভাগের কর্মীরা। এলাকার লোকজন অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন