লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়ায় বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটুর সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিলু শরিফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৭ বছর মাঠে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিগত দিনে অনেক নির্যাতিত হয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। আপনাদের আশা আকাঙ্খার মনোনীত প্রার্থীকে জয়লাভ করাবেন সেজন্য কাজ করছেন। কিন্তু সুসময়ে নড়াইলের দুইটি আসনে মনোনয়ন পেতে অতিথি পাখিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বসন্তের কোকিলের মত এসে, বসন্ত শেষে উড়ে গেলে জনগণের কি হবে সেটা খোঁজ ও রাখবেন না।
তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ৩ মাস কারাবন্দী ছিলেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আমরাই আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তখন টাকাওয়ালারা থেকেছেন এসির মধ্যে। সামনে দলের সুদিন দেখে মনোয়ন পেতে কতিপয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে টাকা খরচ করছেন। আপনাদের হাতে কিছুই আসবে না, টাকা ও শেষ হবে আর ওই নেতাকর্মী ও তখন আপনাদেরকে চিনবে না।
সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তিনিই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে চিনিয়েছেন। আরাফাতের ময়দান ধুধু মরুভূমি, হাজীদের হজ্ব করতে কতো কষ্ট হতো। জিয়াউর রহমান মরুভূমির মধ্যে নিমগাছ রোপন করেছিলেন, সেই গাছের তলে হাজীরা একটু প্রশান্তির ছায়া পায় আর তার জন্য দোয়া করেন।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান, এক হয়ে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক চলুন। নিজেদের মধ্যে বিবেধ ভুলে দলের জন্য কাজ করুন। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা ও হাইব্রিডদের দলে ভেড়ালে পরিনতি অনেক খারাপের দিকে যাবে।
প্রধান বক্তা নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, বারবার জেল খেটেছি, আমার বাড়িতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। দুসময়ে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন দলের সুসময় এসেছে বলে সাদা পাঞ্জাবি পরা অনেককেই পাওয়া যাচ্ছে। নড়াইল জেলা বিএনপির মাটি খালেদাজিয়ার ঘাটি। এখানে কোন হাইব্রিডদের জায়গা হবে না। তিনি আরও বলেন আগামী নির্বাচনে আমাকে নমিনেশন দিতে এমন নয় তবে বিগত ১৭ বছর যারা দলের জন্য কাজ করেছে, আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদের মধ্যে থেকে একজনকে নমিনেশন দেওয়ার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনুরোধ করেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মাহবুব মোর্শেদ জাপল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. টিপু সুলতান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক শেখ মশিয়ার রহমান সান্টু, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সালেহা বেগম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মো. শফিক তারিক, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল রানা লাক্সমি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. তাইবুল হাসান প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জি এম নজরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদুজ্জামান জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক আকরামুজ্জামান মিলু, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু হায়াত সাবু, নড়াইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুর রহমান পলাশ, পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমান, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি এস. এম শাহিন বিপ্লব, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার শাহ আলম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এ সাইফুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জহিরুল ইসলাম জহির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খন্দকার মঞ্জুরুল সাইদ বাবু, সদস্য সচিব আরিফুজ্জামান মিলন, লোহাগড়া পৌর মহিলা দলের আহবায়ক খালেদা জামান, লোহাগড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আকিদুল ইসলাম দুলু, সদস্য সচিব কাজী ইকবাল হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফরিদ বিশ্বাস, লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আহবায়ক তানভীর রহমান, আহবায়ক সদস্য ওকিল সরদার, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মুসতাহিদুর রহমান আমিন, যুগ্ম আহবায়ক আশিকুর রহমান স্বপন, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন জুয়েল, সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান রাজ, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক রিয়াজুল ইসলাম মুন্না, সদস্য সচিব রিফাত হোসেন, লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ফরহাদ ইসলামসহ পৌর, ইউনিয়ন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্তার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।